default-image

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় কিশোরী আকলিমা খাতুন। যাঁর সঙ্গে প্রেমে জড়ায়, সেই ব্যক্তি তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় এবং বিবাহিত। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর, মাস তিনেক আগে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গতকাল মঙ্গলবার কিশোরীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁর অপরিণত বয়সের দাম্পত্যজীবনের ইতি ঘটেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে আকলিমার বোনের বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীর পরিবার বলছে, দাম্পত্য কলহের জের ধরে আকলিমা রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন

আকলিমা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুসুম্বি গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তার স্বামীর নাম সাগর হোসেন (৩০)। সাগরের বাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের কারণে আকলিমা একই গ্রামে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যায় সবার অগোচরে সে গলায় ফাঁস দেয়। পরে স্বামী সাগর হোসেনের সহায়তায় খুবজীপুর বাজারের এক পল্লিচিকিৎসক কাছে তাকে নেওয়া হয়। সে মারা গেছে জানার পর মরদেহ বাজারে ফেলেই পালিয়ে যান স্বামী। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকলিমার নিথর দেহ বৃষ্টিতে ভিজলেও এগিয়ে আসেননি কেউ। রাত সাড়ে আটটার দিকে গুরুদাসপুর থানার পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন

আকলিমার ভগ্নিপতি টিক্কা খান বলেন, তাঁর শ্যালিকা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। বোনের বাড়িতে আসা–যাওয়ার কারণে পাশের বাড়ির সাগর হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে আকলিমার। এ কারণে সাগর হোসেনের প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর এক মাস পর গত মে মাসে সাগরের সঙ্গে আকলিমার বিয়ে হয়।

টিক্কা খান জানান, বিয়ের পর তিন মাসেই আকলিমা-সাগরের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতো আকলিমা। সবশেষ যৌতুকের দাবি নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে আকলিমার মনোমালিন্য হয়। আকলিমা অভিমানে গত রোববার বোনের বাড়িতে চলে আসে। সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

বিজ্ঞাপন

আকলিমার বাবা আশরাফ আলী বলেন, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাগরকে পছন্দ করে বিয়ে করেছিল তার মেয়ে। মেয়ের সুখের কথা ভেবে মেনেও নিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের সময় প্রায় এক লাখ টাকার উপঢৌকন দেওয়া হয়েছিল সাগরকে। কিন্তু সুখ সইল না মেয়ের কপালে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0