বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফয়সাল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালতের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান। জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আমিনুল ও ফয়সালের মধ্যে পরিচয় প্রায় এক মাস আগে। ৭ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে আমিনুলকে মুঠোফোনে ডেকে নেয় ফয়সাল। পরে তাঁরা উপজেলার আড়ংঘাটা বাজারের পাশে কপোতাক্ষ নদের তীরে দেখা করেন। প্রথমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে জুস খাওয়ানো হয় আমিনুলকে। আমিনুল অচেতন হয়ে পড়লে ফয়সাল দা দিয়ে তাঁর গলায় ও ঘাড়ে আঘাত করে। পরে আমিনুলকে নদীতে ফেলে দেন।

ফয়সাল এরপর আমিনুলের ব্যবহৃত ফোন দিয়ে ওই দিন রাত ১০টার দিকে ছুরমান গাজীর কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তিনি মুক্তিপণের টাকা পাইকগাছা ব্রিজের নিচে রাখতে বলেন। তাঁর কথামতো আমিনুলের বাবা কিছু টাকা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসেন এবং দূর থেকে লোক দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সেখান থেকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় ফয়সালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী কপোতাক্ষের পাড়ে গিয়ে আমিনুলের লাশ খোঁজা হয়।

এরপর থেকে তিন দিন ধরে ওই নদের বিভিন্ন জায়গায় আমিনুলের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার সকালে লাশটি কপোতাক্ষ নদের চরে আটকে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তাকবীর হুসাইন বলেন, যেখানে আমিনুলকে হত্যা করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেশ কিছু দূরে থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকাবাসী লাশটি দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার আমিনুলের বাবা বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন