বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের গঠন করা কমিটিতে পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী, সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী এবং চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে আরও দুজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই কমিটি আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবে।

জলাবদ্ধতার সময় পানিতে নগরের নালা, খাল ও সড়ক একাকার হয়ে পড়ে। তখন উন্মুক্ত নালা ও খালে পড়ে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে। গত তিন মাসে উন্মুক্ত নালা ও খালে পড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে গত ৩০ জুন নগরের মেয়র গলি এলাকায় চশমা খালে পড়ে অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। গত ২৫ আগস্ট নগরের মুরাদপুরে চশমা খালে পা পিছলে পড়ে তলিয়ে যান সবজি বিক্রেতা ছালেহ আহমেদ। এখনো তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর গত ২৭ সেপ্টেম্বর নগরের আগ্রাবাদের মাজারগেট এলাকায় ফুটপাত থেকে পা পিছলে নালায় পড়ে মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার (১৯)।

একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিডিএ—কেউ এর দায় নিচ্ছে না। এসব মৃত্যুর জন্য উল্টো পরস্পরকে দায়ী করে আসছে দুটি সংস্থা। কিন্তু সংস্থা দুটির ভূমিকায় চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এ নিয়ে ১ অক্টোবর ‘তদন্তে গরজ নেই, দায় নেয় না কেউ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রথম আলোর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়।

কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছালেহ আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়দায়িত্ব নিরূপণের জন্য মন্ত্রিপরিষদের বিভাগ থেকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করে দেখবে খালে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় কার দায়দায়িত্ব কী। কমিটি বৈঠক ও সরেজমিনে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করবে।

মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি নালায় পড়ে আরও এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেসি পরিবীক্ষণ অধিশাখা থেকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২৫ আগস্ট জলমগ্ন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে নালায় পড়ে তীব্র স্রোতে এক ব্যক্তি (ছালেহ আহমেদ) তলিয়ে যান। রাস্তার পাশে নালা খোলা অবস্থায় রাখা এবং এর কারণে প্রাণহানির বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ স্থানে যদি কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে, তাহলে সেখানে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি থাকা উচিত ছিল।

default-image

চশমা খালে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছালেহ আহমেদের ছেলে সাদেকুল্লাহ মাহিন প্রথম আলোকে বলেন, সেবা সংস্থার অবহেলায় তাঁর বাবা খালে তলিয়ে গেছেন। সেখানে যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকত, তাহলে বাবাকে এভাবে হারাতে হতো না। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের শাস্তি চান তিনি। আর তাঁরা এখনো বাবার মরদেহের খোঁজ পাওয়ার আশায় আছেন।

তবে পরিবার আশায় থাকলেও নিখোঁজ ছালেহ আহমেদকে উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সংস্থার চট্টগ্রামের উপপরিচালক শামীম আহসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ছালেহ আহমেদের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তাঁর খোঁজে চশমা খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত খাল ও নদী—সবখানে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর লাশ ময়লার নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন