default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ‘মরা জুড়ী নদীর’ পুনঃখননকাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। কিন্তু নদীর দুই পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিলম্ব হওয়ায় এই কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। অবশেষে আজ সোমবার সকাল থেকে সেখানে দুই দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে জুড়ী নদীর উৎপত্তি। এটি উপজেলার ফুলতলা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি উপজেলা সদরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিশেছে। এটি বেশ আগে থেকেই পলিতে ভরাট হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্থানীয় কিছু লোক নদীর দুই পাশের জমি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করে ফেলেন। নদীটি ভরাট হয়ে পড়ায় হাওর এলাকার কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে দুর্ভোগ পোহান। এ ছাড়া বর্ষায় অতিবৃষ্টির কারণে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। এমন অবস্থায় এটি ‘মরা জুড়ী নদী’ নামে পরিচিতি পায়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাউবো ‘৬৪ জেলায় ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নদীর ৮ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার জায়গা পুনঃখননের কাজ শুরু করে। দুটি প্যাকেজে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মেসার্স শহীদ ব্রাদার্স ও এসএএসআই প্রাইভেট লিমিটেড নামের ঢাকার দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৩১ মে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দেরি হওয়ার কারণে কাজের মেয়াদ চলতি বছরের (২০২১) নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর আগে পাউবোর পক্ষ থেকে ৭০টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে সেগুলো উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা জানিয়ে দখলদারদের নোটিশ দিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার অর্ণব মালাকারের নেতৃত্বে নদীর উত্তর জঙ্গিরাই এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এ সময় কোথাও বুলডোজার আবার কোথাও হাতুড়ি দিয়ে পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অভিযান চলে।

অভিযানে অন্যদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান রুহুল ইসলাম, পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আক্তারুজ্জামান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান, জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও আল ইমরান রুহুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অনেকে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য ৩০-৪০ বছর আগে নদীর জমি বন্দোবস্ত নেন। পরে বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে এসব স্থানে মাটি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলেন। কেউ কেউ এসব জমির কোনোটির শ্রেণি পরিবর্তন করিয়ে তা কয়েক দফা বেচাকেনাও করেন। এ রকম ২৫টি জমি চিহ্নিত করে সেগুলোর বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আবার উচ্ছেদের খবর পেয়ে কয়েকজন অবৈধ দখলদার আগেই আদালতে রিট আবেদন ও স্বত্ব মামলা করে ফেলেন। আইনি সমাধানের পর সেগুলোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীটি রক্ষায় প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর সহযোগিতাও দরকার।

উচ্ছেদ অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে বলে জানান পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে নদীর পুনঃখননকাজ শুরু হবে। পুনঃখননকাজের পর নদীর দুই পাশে সড়ক তৈরিসহ সৌন্দর্যবর্ধনে একটি প্রকল্প নেওয়া হবে।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ প্রথম আলোয় এ বিষয়ে ‘শুরু হয়নি উচ্ছেদ কার্যক্রম’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন