বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনো এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের কোনো নীতিমালা হয়নি। তাই সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের মতো এর ভাড়া ধরা হচ্ছে কিলোমিটারপ্রতি ১০ টাকা। প্রথম দিন অ্যাম্বুলেন্সে আইসিইউর একজন দক্ষ ব্রাদারকে পাঠানো হয়েছে। রোগীর স্বজনেরা তাঁকে ডিএ হিসেবে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে চেয়েছেন। অবশ্য নীতিমালা না থাকায় তিনি কোনো টিএ পাবেন না।

জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী বলেন, রোগী একজন পুলিশের কর্মকর্তা। তাঁর স্বজনেরা কোথা থেকে যেন এই অ্যাম্বুলেন্সের খবর জেনেছেন। তাঁরা এসে তাঁদের রোগীকে এই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যেতে চান। যদিও ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো রোগীর অবস্থা অতটা খারাপ ছিল না। তবু রোগীর স্বজনদের আগ্রহের কারণে তাঁদের আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আশরাফুল আলী রাজশাহী থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি চালিয়ে নিয়ে যান।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের চালক আশরাফুল আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ যেতেই রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ জন্য রোগীর স্বজনেরা সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নিতে বলেন। সেখানে নেওয়ার পরে তাঁরা জানান, আপাতত রোগীকে সেখানেই রাখতে চান। আর ঢাকায় যেতে চান না। তাঁদের সেখানে নামিয়ে দিয়ে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

২০১৯ সালে মেসার্স ফেরিটেক প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইতালি থেকে পাঁচটি কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সরবরাহ করে। এর একটি পায় রাজশাহী মেডিকেল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতরে উন্নত প্রযুক্তির পালস অক্সিমিটার, ইসিজি, ভেন্টিলেটর, সাকার, মনিটর, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে।

১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৫ টাকা দামের অ্যাম্বুলেন্সটির জন্য একজন আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন ছিল। লোকবল না থাকায় এটি চালানো যাচ্ছিল না বলে কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল।
চালানোর জন্য শুধু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালকদের দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) আশরাফুল আলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তিনিই প্রতিদিন সকালে এসে গ্যারেজের ভেতরেই অ্যাম্বুলেন্সটি ‘স্টার্ট’ দিতেন। আধঘণ্টা চালু রেখে আবার বন্ধ করে চলে যেতেন। শুধু চাকার হাওয়া কমে গেলে হাওয়া দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজের বাইরে নিয়ে যেতেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন