default-image

তোহা ইসলাম কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ১ নম্বর আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। চলতি শিক্ষা বছরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এত দিন নতুন বই পায়নি সে। এই নিয়ে তার দুঃখের শেষ ছিল না। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয় থেকে এক সেট নতুন বই হাতে পেল সে।

তোহা বলে, ‘আগেই বলেছি করোনার কারণে এমনিতেই বিদ্যালয় বন্ধ, ফলে বই–ই ভরসা। আর এত দিন এই বই আমার ছিল না।’

বই পাওয়ায় এখন পাঠ গ্রহণ ও প্রদানে আর তেমন সমস্যা হবে না বলে জানায় তোহা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তোহাই নয়, বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক পর্যায়ের বই না পাওয়া ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থীর সবার নতুন বই পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়টির সূত্র জানা গেছে, বিদ্যালয়টির অবস্থান উপজেলার দেউঘর ইউনিয়নে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টিতে পরীক্ষামূলকভাবে নিম্নমাধ্যমিকের পাঠদান শুরু হয়। মোট শিক্ষার্থী ৭৬৬। এর মধ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে রয়েছে ২৯০ জন। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ৪৭৬ জন।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর হাতে যথাসময়ে নতুন বই পৌঁছেছে। বিপত্তি ঘটেছে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৫। কিন্তু বই দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৪০ জনকে। সপ্তম শ্রেণির ৭৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে বই মিলেছে ৪০ জনের। অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আছে ৭০ জন। বই পেয়েছে ৬০ জন। অর্থাৎ এই তিন শ্রেণির ২৯০ জনের বিপরীতে এত দিন বই পায়নি ১৪০ জন, যা শতকরা হিসেবে দাঁড়ায় ৫২ শতাংশ। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বইবঞ্চিত হওয়ায় তারা শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে আসছিল। ফলে এ নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। শিক্ষকেরা এর দায় চাপায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর। এ নিয়ে ৯ এপ্রিল প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘অষ্টগ্রাম ১ নম্বর আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এখনো বই পায়নি ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নতুন বইয়ের ব্যবস্থা করেন। গতকাল থেকে বইবঞ্চিতদের বই দেওয়া শুরু হয়েছে।

এত দিন বই না পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের গাফিলতিকে দায়ী করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসানুল জাহিদ। তিনি বলেন, চাহিদা দেওয়ার সময় হিসাবের গরমিল করায় মূলত কিছু শিক্ষার্থীর বই পেতে দেরি হয়েছে। তবে যারা বই পায়নি, তাদের জন্য বিদ্যালয়টিতে এখন বই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খলিলুর রহমান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আনা অভিযোগ আবারও অস্বীকার করেন তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণিতে একটু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। বাকি হিসাব ঠিকই ছিল। কিন্তু আমাদের বই দেওয়া হয়নি। সেই কারণে খুবই অসুবিধার মধ্যে ছিলাম। তবে গতকাল থেকে বই দেওয়া শুরু হয়েছে। গতকালই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বই সংগ্রহ করেছে।’ আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাকি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন