অবাধে তোলা হচ্ছে নদের বালু

বিজ্ঞাপন
default-image

আইন অমান্য করে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদে খননযন্ত্র দিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এতে তীরের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০–এর ধারা ৫–এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প, খননযন্ত্র (ড্রেজিং) বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নদ থেকে বালু তোলার ক্ষেত্রে আইন মানা হচ্ছে না।

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদের মহাদেবপুর বালুমহালটি চলতি ১৪২৫ সনের জন্য ইজারা পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদুর রহমান। আগামী ১৪২৬ সনের বালুমহালটি ইজারা পেয়েছেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদারের ছেলে সাকলায়েন মাহমুদ ওরফে রকি। পয়লা বৈশাখ থেকে তিনি এর দখল বুঝে পাবেন।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, বালুমহালটির মহিষবাথান থেকে শিবগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকা থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালুমহালটির বিভিন্ন জায়গায় ড্রামের সাহায্যে নদে খননযন্ত্র ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। এসব যন্ত্রের সাহায্যে নদের ৫০–৬০ ফুট গভীর থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

মহিষবাথান, কুঞ্জবন ও শিবপুর বুড়াশিবতলা গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, নদে অর্ধশতাধিক খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। নদের পানি কমে যাওয়ায় দু-তিন মাস ধরে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বালু তোলা হয়। প্রশাসন এসব যন্ত্র বন্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়। তখন দু-এক দিন বালু তোলা বন্ধ থাকে। কিন্তু পরে আবার শুরু হয়। ড্রেজারের সাহায্যে বালু তোলায় বাঁধে এখন ফাটল দেখা যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এই বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালু তোলার কাজে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বলেন, এই বালুমহাল থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক বালু তোলা হয়। মূল ইজারাদার বালুমহালের বিভিন্ন পয়েন্ট একাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ী তাঁদের আয়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মূল ইজারাদারকে দেওয়ার চুক্তিতে বালু তুলে থাকেন।

শিবপুর গ্রামের একজন শ্রমিক বলেন, প্রশাসনের লোকজন অভিযানে আসার আগেই এলাকায় খবর চলে আসে। এ কারণে কর্মকর্তারা আসার আগেই ব্যবসায়ীরা তাঁদের অনেক মেশিন সরিয়ে নেন। অভিযানের পর সুযোগ বুঝে আবার বালু তোলা অব্যাহত রাখা হয়।

মহিষবাথান গ্রামের আরেকজন শ্রমিক বলেন, এই বালুমহালে আগে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক বালু তোলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় অর্ধেক শ্রমিকই এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।
মহাদেবপুর বালুমহালের মহিষবাথানে বালু তোলেন মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দাবি করেন, এখানে কেউ ড্রেজার বা বোমা মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করেন না। তবে নদের যেসব জায়গায় পানি বেশি রয়েছে, সেসব জায়গায় শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।

ইজারাদার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা নীতিমালা অনুসরণ করে বালু উত্তোলন করে আসছি। প্রশাসন থেকে বলার পর আমরা সব ব্যবসায়ীকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার না করার জন্য বলে দিয়েছি।’
ইউএনও মোবারক হোসেন বলেন, ‘এই বালুমহালে আমাদের নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। খননযন্ত্র কিংবা বোমা মেশিন ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে কেউ বালু তুললে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন