default-image

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় আইন অমান্য করে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইট তৈরির কাজে কৃষিজমি ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ১২টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটাগুলো হলো কেএসপি ব্রিকস, আরকে ব্রিকস, আরএসবি ব্রিকস, এনএসবি ব্রিকস, টিএমবি ব্রিকস-১, টিএমবি ব্রিকস-২, এডি ব্রিকস, জেএবি ব্রিকস, আর অ্যান্ড বি ব্রিকস, রনি ব্রিকস, এমএইচডি ব্রিকস ও হাজী সুপার ব্রিকস। তবে উপজেলা প্রশাসনের বৈধ ইটভাটার তালিকায় এগুলোর কোনোটিই নেই।

নবাবপুর ইউনিয়নের ইন্দুরদি গ্রামের আরএসবি ইটভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পুরোনো ইটভাটা। কিছু কাগজপত্র আছে। আর কিছু কাগজপত্র নেই। তবে আমার ছোট ভাই নাছির উদ্দিন ঢাকা থেকে বিশেষ পাস (অনুমতি) নিয়ে এসেছে। এসব মিলিয়ে এবার কাঠ পুড়িয়েছি। তবে এবার আর বেশি দিন ইটভাটা চালাব না। কিছুদিন পরে ইটভাটা বন্ধ করে দেব।’

বালিয়াকান্দির ইশালবাড়িতে টিএমবি নামের দুটি ইটভাটা আছে। ভাটার মালিক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুটির মধ্যে একটি ভাঙার জন্য অনেক আগেই নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। যেকোনো সময়ে এসে ভেঙে দেবে। তাই যত দিন না ভাঙছে, তত দিন কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছি। এ ছাড়া অপর ইটভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। ইটভাটাটি ভেঙে দিলে আবার নিয়ম মেনে নতুন করে তৈরি করব। তখন কয়লা দিয়ে ইট পোড়াব।’

বিজ্ঞাপন

ইসলামপুর ইউনিয়নের গণপত্যা এলাকায় কেএসপি ইটভাটা অবস্থিত। ইটভাটা থেকে প্রায় ৫০০ গজের মধ্যে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানেও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হয়। প্রায় একই চিত্র অন্যান্য ইটভাটাগুলোতেও। ইটভাটাগুলোর কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা প্রতিদিন হাজিরা হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন ধরনের কাঠ কেনা হয়। মণপ্রতি বিভিন্ন কাঠের দাম বিভিন্ন ধরনের। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয়। এ কারণে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। এ ছাড়া কয়লা আনা খুব ঝামেলা। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাঁরা অত নিয়মকানুন জানেন না। প্রতিদিন কাজ করেন। কাজের বিনিময়ে তাঁরা মজুরি পান।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের (সংশোধিত) ৬ ধারায় জ্বালানি কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কোনো কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না।

১৬ ধারায় বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬ বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করেন, তা হলে তিনি অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ১৫ ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি, ধারা ৫–এর (ক) উপধারা (১)–এর বিধান লঙ্ঘন করে ইট প্রস্তুত করার করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে উহা ব্যবহার করেন; বা (খ) উপধারা (২)–এর বিধান লঙ্ঘন করে, ৩৮ (জেলা প্রশাসকের) অনুমোদন ব্যতীত ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে মজাপুকুর বা খাল বা বিল বা খাঁড়ি বা দিঘি বা নদ-নদী বা হাওরবাওড় বা চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটেন বা সংগ্রহ করেন; তাহলে তিনি অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

ইউএনও আম্বিয়া সুলতানা বলেন, ‘সাধারণত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে আমাদের সঙ্গে ইটভাটা বা ভেকুর মালিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের সখ্য নেই। ইতিমধ্যে একটি ইটভাটাকে সতর্ক করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন