বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ রয়েছে। এই পদে কোনো সময় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
মাহমুদুর রশিদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, নান্দাইল

জানা যায়, ২০০৪ সালে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কম্প্রিহেনসিভ জরুরি প্রসূতি সেবা কার্যক্রম (ইওসি) চালু হয়। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস করার লক্ষে৵ একটি বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তায় এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। ওই সময়ও অবেদনবিদ ও সার্জন পদ খালি ছিল। হাসপাতালের দুজন চিকিৎসককে অস্ত্রোপচার ও অ্যানেসথেসিয়া বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের ওপর ইওসি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে আগত প্রসূতিদের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়লে ওই চিকিৎসকেরা এগিয়ে যেতেন। ফলে নান্দাইল ও আশপাশে উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের প্রসূতিরা ওষুধসহ বিনা মূল্যে এ সেবাটি নিতে পারতেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অবেদনবিদ চিকিৎসক অবসরে চলে যান। অন্যদিকে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে যান। বর্তমানে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) পদে চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু অবেদনবিদ পদ খালি থাকায় জরুরি প্রসূতি সেবা বিভাগে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে উপজেলা সদর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের প্রসূতিদের একই ধরনের সেবা গ্রহণ করার জন্য জেলা সদরে যেতে হচ্ছে। এতে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রশিদ বলেন, ৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী এখানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ রয়েছে। এই পদে কোনো সময় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এতদিন হাসপাতাল কীভাবে চলছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হাসপাতালে যোগদান করা চিকিৎসকদের মধে৵ কেউ কেউ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী অবেদনবিদ ছিলেন। তাঁদের দিয়ে প্রসূতিদের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কাজ চালিয়ে নেওয়া হতো। অস্ত্রোপচার কক্ষ থাকলেও অবেদনবিদ না থাকায় এখানে সব ধরনের শল্য চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাংসদ আনায়ারুল আবেদীন খান জানান, অবেদনবিদ পদে চিকিৎসক চেয়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন