সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য তীরনই নদী থেকে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রূপগঞ্জ গ্রামে।
সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহারের জন্য তীরনই নদী থেকে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রূপগঞ্জ গ্রামে। প্রথম আলো

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় তীরনই নদের ওপর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য খায়রুল কবির নামের এক ঠিকাদারকে গত ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। এ কাজে জমি ভরাটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে আট লাখ টাকা।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। পাইপের মাধ্যমে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে সেই বালু ফেলা হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য খায়রুল কবির নামের এক ঠিকাদারকে গত ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজটি ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
বিজ্ঞাপন

বালু তোলার কাজে ব্যস্ত সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি বলেন, নদের মাঝখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরং তলদেশ গভীর হলে পানির প্রবাহ বাড়বে। আগে ১৫ দিন বালু তুলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গত ২৮ আগস্ট আবার বালু তোলা শুরু হয়। কাজ শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

সর্বমঙ্গলা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, ঠিকাদার জমি ভরাটের খরচ সাশ্রয় করতে নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে প্রকল্প এলাকা ভরাট করছেন।
জহুরুল ইসলাম নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা করছে প্রশাসন। আর এখানে অবাধে বালু তোলা হলেও তা বন্ধে কারও পদক্ষেপ নেই। এতে অন্যরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে উৎসাহী হবে।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল ঠিকাদার খায়রুল কবিরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদেবার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, নদ থেকে বালু উত্তোলন করে সেতুর নির্মাণকাজ করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। কার্যাদেশে যে মানের বালুর কথা বলা হয়েছে, ওই মানের বালু ঠিকাদার সরবরাহ করলে তাঁদের আপত্তি নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলছেন, নদ থেকে বালু উত্তোলনে কেউ তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা যোবায়ের হোসেন বলেন, তীরনই নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অবৈধভাবে বালু তোলায় দণ্ড

প্রতিনিধি, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট জানান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলায় তিন ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে চারটি বালু তোলার যন্ত্র নষ্ট করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার গেন্দুকুড়ি গ্রামের আনসার উদ্দিনের ছেলে লিপন উদ্দিন (৪০), পূর্ব নওদাবাস গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৫) ও বাড়াইপাড়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আজিজার রহমান (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ধুবনি গ্রামসহ তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান ইউএনও সামিউল আমিন। তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করার সময় ওই তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তা ছাড়া উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে বালু উত্তোলনে চারটি অবৈধ বোমা মেশিন আটক করে ভেঙে নষ্ট করা হয়। পরে থানা-পুলিশ ওই তিন ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। এ সময় আদালত তাঁদের প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন