জামালপুর পৌরসভার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে শহরে অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়। এক দশকে শহরে অটোরিকশার সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০১৮ সালে সিদ্ধান্ত হয়, পৌর শহরে নিবন্ধন করা তিন হাজার অটোরিকশা চলাচল করবে। সেই লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ তিন হাজার অটোরিকশাকে নিবন্ধনও দিয়েছে। তবে নিবন্ধন ছাড়া অটোরিকশা চলছে আরও প্রায় সাত হাজার।

শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়া। তাঁর স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। সকালবেলায় সেখানে খাবার নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে রেলগেট এলাকায় যানজটে অটোরিকশায় আটকা পড়েন। ফরহাদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এই শহরের মানুষের নাকাল অবস্থা অটোরিকশার কারণে। পুরো সড়ক দখলে নিয়েছে অটোরিকশা। শহরের সড়কে লম্বা সারি শুধু অটোরিকশার। অন্য কোনো যানবাহন নেই। এতে চরম দুর্ভোগে শহরবাসী। এমন পরিস্থিতিতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

মুরাদুজ্জামান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই যানজটে জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ইজিবাইক কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না। শহর থেকে যদি বাসস্ট্যান্ড বা দিকপাইত এলাকায় যেতে হয়, দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। কারণ, এই সড়কে এলে এক ঘণ্টা সময় লাগে যানজট পাড়ি দিতে।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অনেক লড়াই হয়েছে। সব ধরনের প্রশাসনিক সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অটোরিকশা নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কেউ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারেন না। লাল-সবুজ রঙের অটোরিকশা চলাচলের সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। লাগামহীন অটোরিকশার কারণে শহরবাসীর ভোগান্তি এখন চরমে। কোনো সড়ক পাবেন না, যেখানে অটোরিকশার যানজট নেই।

যানজট নিরসন শহরবাসীর একমাত্র দাবি বলে উল্লেখ করেন জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই যানজট নিরসনে নতুন পরিকল্পনার চিন্তা করছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আলোচনা হয়েছে। অটোরিকশা চলাচল সমিতির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এবার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পৌর কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।