সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মালামাল নৌযানে তোলা ও নামানোর জন্য কারখানার জেটি ও এর আশপাশে লাইটার কার্গো জাহাজ, বাল্কহেডজাতীয় অতিরিক্ত নৌযান যত্রতত্র পার্ক করে রাখা।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য প্রথম আলোকে বলেন, নৌ চ্যানেলে প্রতিবন্ধকতা, নৌযানের প্রতিযোগিতা ও নদীতে অবৈধ বার্থিংয়ের কারণে নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচ দিয়ে এক লেনে নৌযান চলাচল করায় নদীপথের পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে নৌযানগুলো।

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচ দিয়ে বর্তমানে দুই পিলারের মাঝখান দিয়ে (৬৫ ফুট) এক লেনে নৌযান চলাচল করছে। সেতুর নিচের এক লেন দিয়ে দুটি লাইটার কার্গো জাহাজ পাশাপাশি অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু তিনটি নৌযান একই সঙ্গে অতিক্রম করা ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

গত ১১ মাসে সেতুর এক কিলোমিটার অংশে লাইটার জাহাজের ধাক্কায় দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে মোট ৪৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, শীতলক্ষ্যায় ১২ প্রকারের নৌযান চলাচল করে। প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ৬০০ নৌযান চলে, যা বর্তমান শীতলক্ষ্যার ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি।

সমাধান কী

দুর্ঘটনা এড়াতে শীতলক্ষ্যায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন সংস্থার নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি বদিউজ্জামান। তিনি বলেন, জেটিতে পণ্য খালাসের পর কার্গো জাহাজগুলোকে বড় নদীতে চলে যেতে হবে। কিন্তু এটা করা হচ্ছে না।

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে নৌযান চলাচলের আরও দুটি লেন আছে। বর্তমানে এগুলো বন্ধ। বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলছেন, এ দুটি লেন খনন করে গভীরতা বাড়ানো গেলে সহজে ছোট নৌযানগুলো চলতে পারবে। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশের চ্যানেল চালু করা গেলে কমবে দুর্ঘটনা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন