সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের কোলাহলময় এলাকা মেডিকেল মোড় থেকে শহরের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত, সেখান থেকে সিটি বাজারের সামনে দিয়ে শাপলা চত্বর হয়ে লালবাগ এবং পার্ক মোড় হয়ে মডার্ন মোড় পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক চার লেন হলেও এর সুবিধা নগরবাসী পাচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের মেডিকেল মোড় থেকে শহরের ভেতরে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার চার লেন সড়কের দুই পাশে গাড়ি বা মোটরসাইকেল দাঁড় করে রাখা হয়েছে। এর ফলে এক লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। অফিস ও স্কুল ছুটি হওয়ার সময় সড়কজুড়ে যানজট লেগে যায়। এক লেন দিয়ে গাড়ি চলায় ভোগান্তি হয় বাসিন্দাদের।

একটি বেসরকারি ক্লিনিকের সামনে গাড়ি পার্ক করে দীর্ঘক্ষণ বসেছিলেন চালক তোজাম্মেল হোসেন। তিনি বললেন, ‘এসেছি অনেক দূর থেকে। রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলে চলে যাব। কিন্তু অন্য কোথাও পার্কিংয়ের সুবিধা নেই বলে এভাবেই সড়কের পাশে থাকতে হচ্ছে।’

ধাপ এলাকার ব্যবসায়ী মারুফ ইলাহী বলেন, রাস্তা চার লেন হলো ঠিকই। কিন্তু সেই সুবিধা তো জনগণ পাচ্ছে না। অর্ধেক রাস্তাজুড়ে শুধু পার্কিং। তাহলে এ চার লেন করেই বা কী লাভ হলো?

সিটি বাজারের সামনে থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ পণ্য বিক্রেতারা তাঁদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হকারদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে আসা মানুষজন সড়কের ওপরে দাঁড়িয়ে দরদাম করছে। লালবাগ এলাকা থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত সড়কেরও একই অবস্থা। একজন হকার বলেন, সিটি বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। এর ফলে এখানে পণ্য নিয়ে বসেন তিনি। বিক্রি ভালো হয়।

জাহাজকোম্পানী মোড় এলাকার একজন ব্যবসায়ী মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, নামেই চার লেন। সড়ক বিভাজকের দুই দিকে দুটি করে লেন। কিন্তু দুই পাশের এক লেন সব সময় দখল থাকে। এর ফলে কেনাকাটা করতে আসা জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

রংপুর মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি না রাখার জন্য প্রায় সময় অভিযান চালানো হয়। জরিমানাও করা হয়ে থাকে। কিন্তু অভিযান শেষে হলে আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর ব্যয় ছিল ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, নগরবাসীর চলাচলে সুবিধার জন্য এই চার লেন সড়ক করা হয়েছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষজন। তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন