বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২৯টি ইটভাটা আছে। এর মধ্যে ২১টি জিকজ্যাক ও ৮টি ড্রাম চিমনি ইটভাটা। চিমনি ইটভাটাগুলো মধ্যে আছে—আল্লার দান ব্রিকস, এমএমবি ব্রিকস, ফাইভ স্টার ব্রিকস, এইচআরটি ব্রিকস, আর এনকেএফ ব্রিকস, এমসিকে ব্রিকস, সাউদান ব্রিকস ও মৃধা ব্রিকস।

সম্প্রতি সরেজমিনে আমতলী উপজেলার কুকুয় ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের এমএমবি ব্রিকস নামের ড্রাম চিমনি ইটভাটায় কাঠের স্তূপ দেখা যায়। ইট পোড়ানোর জন্য এসব কাঠ সামাজিক বন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কাঠ জ্বালানি উপযোগী করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে করাতকল।

একই গ্রামের ফাইভ স্টার ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ইট পোড়ানোর জন্য ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়েক হাজার মণ কাঠের স্তূপ করে রাখা। কাঠ ফালি করার জন্য বসানো হয়েছে করাতকল। আল্লাহর দান ব্রিকস ইটভাটাতে কাঠের স্তূপ দেখা গেছে।
রায়বালা গ্রামের এমএমবি ব্রিকস ইটভাটা থেকে ১০০ ফুট দূরত্বে বসবাস করেন মো. মামুন। তিনি বলেন, ‘এই ভাটার ইট পোড়ানো ধোঁয়ায় আমাদের বাড়ি ও আশপাশের কোনো বাড়ির গাছে ফল ধরে না। রাতের ধোঁয়া কুয়াশার মতো নিচে পড়ে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমএমবি ইটভাটার পাশের বাসিন্দা এক নারী বলেন, তাঁদের ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে তাঁরা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।

ইট পোড়ানো কাজে যদি জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কে এম আবদুল্লা বিন রশিদ, ইউএনও, আমতলী

এমএমবি ইটভাটার মালিক আনোয়ার মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এই বছর অনেক টাকা ব্যয় করেছি, এই বছর ভাটা চালিয়ে বন্ধ করে দেব। আমরা ইট পোড়ানোর জন্য কাঠ ইটভাটায় এনে রেখেছি।’

ইট পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দেয় বলে জানালেন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহারাব উদ্দীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এসব ইটভাটা জনশূন্য এলাকায় স্থাপিত হলে ভালো হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপিত হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি থাকে।

আমতলী উপজেলায় বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম। তাঁর ভাষ্য, অচিরেই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া কোনো ইটভাটায় যদি ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের ব্যবহার হয়, তাহলে ভাটামালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম আবদুল্লা বিন রশিদ বলেন, ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। ইট পোড়ানো কাজে যদি জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন