বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে গত শনিবার আপার কাগাবলা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ২০০ দরিদ্র পরিবারের ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সকাল থেকে এই বিতরণ শুরু করেন তাঁরা। শেষ হয়েছে রাতে। তাঁরা প্রত্যেক পরিবারকে ২ লিটার সোয়াবিন তেল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি ময়দা, ১ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি ও ১ কেজি লবণ দিয়েছেন।

এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আপার কাগাবলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমন মোস্তফা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য আব্দুর রকিব, কাগাবলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক, বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমদ, সভাপতি সাকিবুর রহমান মেরাজ, সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন প্রমুখ।

কাগাবলা গ্রামের নাসিমা বেগম গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাইয্য (সাহায্য) পাইয়া খুব খুশি অইছি (হয়েছি)। গরিব মানুষ। অবস্থা বেশি ভালা না। খুব কষ্ট করি খাইরাম। আমরা বুঝছিই না তারা দিবা করি (দিবেন বলে)। কেউর কাছে হাতও পাততাম পারি না। ঘরও বইয়া (বসে) পাইছি।’

আপার কাগাবলা ইউপি চেয়ারম্যান ইমন মোস্তফা গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এরা গত বছরও খাদ্য বিতরণ করেছে। তাদের পরিবার সিলেকশন আমার খুব ভালো লেগেছে। যাঁদের প্রয়োজন, শুধু তাঁদেরই তারা চিহ্নিত করেছে। আমাদের এলাকা একটি গরিব এলাকা। গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। একেবারে সঠিক সময়ে তারা বিতরণ করেছে। তাদের কার্যক্রম খুবই ভালো, চমৎকার।’

বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থা গঠন করা হয়। শুরুতে সংস্থার সভাপতি সাকিবুর রহমান ভেবেছিলেন কী করে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগিতা করা যায়। এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সবাই তাঁকে এসব কাজে উৎসাহিত করেন।

ধীরে ধীরে বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থা বিভিন্নভাবে দরিদ্র পরিবারকে নানা উপায়ে সহায়তা দেওয়া শুরু করে। তাঁরা দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। টাকার অভাবে যাঁরা চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাঁদের সহায়তা দেন। পর্যায়ক্রমে সংস্থার সদস্যরা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করাসহ সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণও করেন তাঁরা।

বন্ধন সমাজকল্যাণ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত এই সংস্থার পক্ষ থেকে ৬০০ দরিদ্র পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের দরিদ্র পরিবারের আট শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন