বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ছমীর ব্যাপারীর ডাঙ্গী ও আমীন খাঁর ডাঙ্গী গ্রামের মধ্যে পদ্মার একটি ধারা চলে গেছে। স্থানীয়ভাবে যা নমুরছাম কোল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর ওই ধারায় জাল ও বাঁশ দিয়ে আড়াআড়িভাবে ফাঁদ পেতে ভেসাল দিয়ে মাছ শিকার করা শুরু হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহায়তায় ১৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের বেড়াটি দিয়েছেন সালথা উপজেলার হরিণা গ্রামের বিকাশ হালদার (৫২) নামের এক ব্যক্তি। যদিও আইন অনুযায়ী নদীতে কিংবা কোনো জলাধারে এভাবে আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মাছ শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ সম্পর্কে অভিযুক্ত বিকাশ হালদার বলেন, ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। বেড়ার দুই পাশে দুটি ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। টাটকানি, পুঁটি ও চিংড়ি মাছ ধরা পড়ছে।

বিকাশ হালদার দাবি করেন, চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওই এলাকার বাসিন্দা কবির খানের ভাই আজিজ খানকে ১০ হাজার টাকা ও ওই এলাকার আরেক জনকে১০ হাজার টাকা দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন।

তবে এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে আজিজ খান বলেন, তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক অভিযোগ করতে পারেন। তাঁরা মাছ ধরার কোনো কাজে যুক্ত নন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান নমুরছামে পদ্মা নদীর ধারায় দেওয়া বেড়াটি পরিদর্শন করেন। বেড়া অপসারণের জন্য তিনি দুদিন সময় দেন। এর ছয় দিন পর সেখানে তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় এক শ্রমিক আহত হলে অভিযান বন্ধ করে দেন।

গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে নমুরছাম বাঁধ এলাকার দেখা যায়, নদীতে আড়াআড়িভাবে জাল পাতা রয়েছে। বাঁধের দুই পাশে দুটি ভেসাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন দুই জেলে। তাঁদের একজন সুধীর হাওলাদার (৬৭)। তিনি বিকাশ হালদারের আত্মীয়। সুধীর বলেন, বেড়ার এক পাশের জাল নিয়ে গেছে অভিযানে আসা ব্যক্তিরা। আর পানির ওপরে থাকা বাঁশ ও জালের বিভিন্ন স্থানে কেটে দিয়ে গেছে। ওই দিনই সব মেরামত করে আবার মাছ শিকার শুরু করেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এক শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার না হলে আমরা পুরো বেড়া ও বাঁধ অপসারণ করে আসতাম। ওই বেড়া উচ্ছেদে ফের অভিযান চালাবে মৎস্য বিভাগ।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন