বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফারহানা ইয়াসমিন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এই তিন পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

আজ বুধবার সকালে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য (ভিসি) আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক ফারহানা বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্যপদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন। তিনি আরও জানান, চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত বা অপসারণ করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নেই। তবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

কবে নাগাদ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস প্রথম আলোকে জানান, ‘দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন মুখপাত্র নাজমুল হাসান, শামীম হোসেন ও আবু জাফর হোসাইন বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্য নন। তিনি ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটেই ক্ষান্ত হননি, উপরন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাঁরা আরও বলেন, শুধু প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি নয়, তাঁকে স্থায়ীভাবে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

গত রোববার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ফারহানা ইয়াসমিন। চুল কেটে দেওয়ার অপমান সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার রাতে নাজমুল হাসান নামের এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও সব পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দুপুরে ফারহানাকে স্থায়ীভাবে অপসারণসহ দুই দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে জমা দেন।

ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ফারহানা ইয়াসমিন। তাঁর দাবি, পরীক্ষা পেছানোর দাবি মেনে না নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন