বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

নিহত উত্তম সরকার উপজেলার হরিশপুর গ্রামের অশান্ত সরকারের ছেলে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অঝোরে কাঁদছিলেন উত্তম সরকারের মা শেফালী সরকার (৫৭) ও স্ত্রী শ্রাবন্তী সরকার (৩২)। মায়ের কোলে বসে কাঁদছিল উত্তমের ৯ বছরের ছেলে হিরামন সরকার এবং ছয় বছরের ছেলে হিরণ্ময় সরকার। হিরামন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং হিরণ্ময় প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

পাশাপাশি দুটি টিনের ঘর। একটি থাকার ঘর, অপরটি রান্নাঘর। থাকার ঘরটি পাকা। ঘরের বারান্দায় বসে কাঁদতে কাঁদতে মা শেফালী সরকার বলছিলেন, ‘আমার বাবার কোনো শত্রু ছিল না। নির্বাচন জেতাই আমার বাবার কাল হয়েছে।’ স্ত্রী শ্রাবন্তী সরকার বলছিলেন, ‘কী কারণে উত্তমকে হত্যা করা হয়েছে জানি না। ওর তো কোনো শত্রু ছিল না। ও তো কোনো দিন আমাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি। তাঁর পকেটে ৩০ হাজার টাকা ছিল। হত্যাকারীরা কোনো টাকা নেয়নি।’

সুন্দলী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য অর্ধেন্দু মল্লিককে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে অর্ধেন্দু নিহত উত্তম সরকারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

ছোট ছেলে হিরণ্ময় বলে, ‘আমার একটা কথা আছে। আমার বাবার পকেটে চার-পাঁচ লাখ টাকা থাকত। তোরা টাকা নিবি নিয়ে যা, বাবার প্রাণটা নিয়ে গেলি কেন?’

উত্তমের কাকা স্বপন কুমার সরকার বলেন, সোমবার রাতে উত্তম সুন্দলী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে হরিশপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। তাঁর পেছনে অপর একটি মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি যাচ্ছিল। রাত সোয়া আটটার দিকে উত্তম হরিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পেছনে আসা মোটরসাইকেল আরোহীরা তাঁর গতিরোধ করে। এরপর তারা সামনের দিক থেকে তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এতে উত্তম ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সুন্দলী বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে একটি চায়ের দোকানের সামনের রাস্তায় দুটি মোটরসাইকেল এসে থামে। একটিতে ছিলেন উত্তম সরকার। অপরটিতে ছিল অজ্ঞাত তিনজন আরোহী। তাদের মুখে মাস্ক, একজনের হেলমেট এবং অপর দুজনের মাথায় মাংকিটুপি ছিল। তারা চারজনে মিলে ওই চায়ের দোকান থেকে কফি পান করে। এরপর তারা মোটরসাইকেলে করে সুন্দলী-রামসরা সড়ক দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর উত্তমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সোমবার রাত থেকে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) অভিযান শুরু করে।

অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মণ্ডল বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মঙ্গলবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যায় মরদেহ বাড়িতে আনা হবে। মরদেহ সৎকারের পর মামলা হবে। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করা যায়নি। তবে গত ইউপি নির্বাচন এবং আরও একটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন