default-image

কুমিল্লায় উন্নয়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল), আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ আবদুল মতিন খসরু এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজল খান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেছেন একই দলের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন। তবে কুমিল্লার আরেক সাংসদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলামের প্রশংসা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে কুমিল্লার উন্নয়ন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গে এই তিনজনের সমালোচনা করেন।

মতবিনিময় সভায় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন তাঁর তিন মেয়াদের নানা ধরনের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসব উন্নয়নকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের নাম উল্লেখ করে তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন। সাংসদ বাহাউদ্দিন কুমিল্লা টাউন হল ভেঙে বহুতলবিশিষ্ট নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণ, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন, যুবলীগ কর্মী জিল্লুর রহমান চৌধুরী হত্যাকাণ্ড ও কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল নিয়ে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক ও কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা টাউন হল

default-image

সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, ‘কুমিল্লায় এত উন্নয়ন করেছি। কিন্তু এত উন্নয়ন করার পরও যখন নগরের কান্দিরপাড় আসি, তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। কুমিল্লা টাউন হলের খারাপ অবস্থা।’ তিনি বলেন, ১৯৩৩ সালে কুমিল্লা টাউন হল ভবন হয়েছিল। তখন লোকসংখ্যা কম ছিল। এখন লোকসংখ্যা বেড়েছে। তিনি দরপত্র আহ্বান করে এই ভবন করতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। সভার মতামত নিয়ে টাউন হল বহুতল ভবন করতে চান। তখনই কুমিল্লার কিছু কুচক্রী লোক এর বিরোধিতা করে ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের ভুল বুঝিয়ে পত্রিকায় বিবৃতি দেয়। সাংসদ বলেন, ‘কুমিল্লা টাউন হল নিয়ে ঢাকার বুদ্ধিজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবে না। কুমিল্লার জনগণ নেবে। আমি মরে গেলে এটা কেউ করতে আসবে না। আর আইনে টাউন হলকে পুরাকীর্তিতে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে আগরতলা অডিটরিয়াম ভেঙে নতুন করে করা হয়েছে, সেখানে আমরা কেন করতে পারব না। চট্টগ্রামে মুসলিম হল ভেঙে নতুন হল করা হচ্ছে। কিসের ঐতিহ্য? টাউন হল হবেই। আমরা টাউন হলের নাম পরিবর্তন করব না। যেদিন গণশুনানি হবে, সেদিন কুমিল্লায় টাউন হল ভেঙে নতুন ভবন করার জন্য মানববন্ধন হবে।’

কুমিল্লা বিভাগের নাম নিয়ে চক্রান্তের অভিযোগ

সাংসদ বাহাউদ্দিন বলেন, ১৯৮৮ সালে কুমিল্লা বিভাগের জন্য আন্দোলন শুরু করেন তিনি। তিনি তখন পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি উত্থাপন করেন। কুমিল্লা নামে বিভাগ যখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে তখন বর্তমান অর্থমন্ত্রী (আ হ ম মুস্তফা কামাল) ময়নামতি নামে বিভাগ করার কথা বলেন। বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমি বলি ময়নামতি নয়, কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা না এলেও কুমিল্লা বিভাগ হবেই।’

কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল

সাংসদ আরও বলেন, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের নামে একটি ভবন চেয়েছিলেন তিনি। তখন পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন তখন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি (মুস্তফা কামাল) ওই স্কুলের ভবন বরাদ্দ কেটে দিলেন। কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল থেকে আফজল খান পরিবার টাকা আত্মসাৎ করেছেন অভিযোগ করে সাংসদ বলেন, ‘যদি প্রমাণ দিতে না পারি পার্লামেন্ট মেম্বার থেকে পদত্যাগ করব। ওরা মডার্ন স্কুল থেকে লুটপাট করত। আর আমি তহবিলে টাকা বাড়িয়েছি। মডার্ন স্কুল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কারণে আজ আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র।’

দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ ও মন্ত্রীদের নিয়ে তাঁর (বাহাউদ্দিন) এই বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। আমি কোনো কাজে বিরোধিতা করিনি।
আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য

যুবলীগ কর্মী জিল্লুর হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি

সাংসদ বলেন, জিল্লুর ডাকাতির মামলায় দুই মাস জেল খেটেছেন। জিল্লুর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল হত্যা মামলার আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা আছে। চৌয়ারা বাজার ও ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিচার করতে হবে। হত্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ নেই। আগে তদন্ত করে আসামি গ্রেপ্তার করতে হবে। তদন্তবিহীন কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে এক হত্যা মামলা দিয়ে নমিনেশন ১০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাহাউদ্দিন।

আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আমি যখন কুমিল্লার শাসনগাছায় রেলওয়ে ওভারপাস করার উদ্যোগ নিই, তখন এর বিরোধিতা করেন আবদুল মতিন খসরু। তাঁর বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে, বলবে বুড়িচং (আসলে তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া)। লোটাস কামালের বাড়ি কোথায়, বলবে লালমাই। কিন্তু আমার বাড়ি কুমিল্লায়।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ ও মন্ত্রীদের নিয়ে তাঁর (বাহাউদ্দিন) এই বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য। আমি কোনো কাজে বিরোধিতা করিনি। তিনি (বাহাউদ্দিন) সব সময় অহংকার নিয়ে কথা বলেন।’

কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের মেয়ে সাংসদ আঞ্জুম সুলতানা বলেন, ‘ওনার (বাহাউদ্দিন) বক্তব্যের জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে।’

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন থাকায় এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন