default-image

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ইভা খাতুন। মাগুরা মেডিকেল কলেজে তিনি ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা এখন তাঁর দারিদ্র্য। ইভা নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সলইপাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী ও মা ঝরনা বেগমের মেয়ে।

ইভার মা ঝরনা বেগম বলেন, ইভার বয়স যখন দুই বছর চার মাস, তখন তাঁর বাবা কিডনিজনিত সমস্যায় মারা যান। এরপর থেকে অভাব-অনটনের সংসারে মেয়ে বড় হতে থাকে। শেষ সম্বল ১৫ শতাংশ জমিও স্বামীর চিকিৎসা করাতে বন্ধক রাখতে হয়েছে। টিউশনি করে সংসার ও মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে তাঁকে।

বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরে নানার বাড়ি থেকে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ থেকে ২০১৯ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন ইভা খাতুন। প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও পড়ার সুযোগ হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ইভা। নতুন করে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। চলতি বছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয় তাঁর। ভর্তি ও মেডিকেলে পড়ালেখা চালানোর আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটছে মা-মেয়ের দিন।

ইভা খাতুন বলেন, ‘মায়ের সহযোগিতায় বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও অর্থাভাব প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমাকে ডাক্তার হতেই হবে।’

ঝরনা বেগম বলেন, ‘আর্থিক অভাব-অনটনের সংসারে অনেক কষ্ট করে মেয়েকে এত দূর এনেছি। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তিসহ পড়াশোনার ব্যয় বহনের মতো অবস্থা আমার নেই। মানুষের সহযোগিতা পেলে মেয়ের স্বপ্নটা পূরণ হতো।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন