বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন দুলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংস্কারের জন্য মাদ্রাসার ছাউনি খুলে এখন বিপাকে পড়েছি। মনে করেছিলাম, মানুষের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে পারব। এখন দেখছি, সংস্কারে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হবে। মাদ্রাসার তহবিলেও সংস্কার করার মতো টাকা নেই।’

সংস্কার করার জন্য মরিচা ধরা টিনের চালা খুলে বিপাকে পড়েছেন ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অর্থাভাবে ছাউনি দিতে না পেরে এখন ছাউনি ছাড়া ঘরেই চলছে পাঠদান।

সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার দেখা যায়, আধপাকা ঘরের কক্ষগুলোতে রোদের ঝিলিক পড়ছে। টিনের ছাউনির জন্য নিচে দেওয়া কাঠের অবকাঠামোর ও বাঁশের সিলিং পচে গিয়ে খুলে খুলে পড়ছে। মাদ্রাসাটিতে ১৫০ শিক্ষার্থী থাকলেও আজ উপস্থিত হয়েছে ৫০ জন শিক্ষার্থী। খোলা আকাশের নিচেই তারা ক্লাস করছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় দুই যুগ বিনা বেতনে শিক্ষকেরা পাঠদান চালিয়ে এসেছেন। তবে ২০১৫ সালে মাদ্রাসাটির দায়িত্ব নেয় আনজুমানে রাহমাতুল্লিল আলামিন ট্রাস্ট। তারা চারজন শিক্ষক, দুজন শিক্ষিকা ও এক দপ্তরিকে মাসিক সামান্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রাক্‌-প্রাথমিকে ১৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ২৫, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩০, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩০, চতুর্থ শ্রেণিতে ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসা ভবনটি ২০০০ সালে নির্মাণের পর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। ছাউনির টিনগুলো মরিচা ধরে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ছাউনির অবকাঠামোর কাঠ ও নিচের সিলিংগুলো পচে গেছে। আগামী বর্ষায় যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গত ২৬ ডিসেম্বর মরিচা ধরা টিনগুলো খুলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্কারের জন্য এখন ছাউনি দিতে ১৭ বান্ডিল টিনসহ আড়াই লাখ টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। তহবিলে টাকা না থাকায় ছাউনি এভাবে ফেলে রেখে ছাউনি ছাড়া ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কবাখালী আল আমিন বারিয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় ছাউনি ছাড়া ঘরে পাঠদানের বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। মাদ্রাসাটি সরেজমিনে দেখে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হবে। আশা করি, ছাউনির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন