বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ সকাল ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম বা উত্তর দিকে দুর্বল হয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত পারে।

এদিকে, মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের কারণে মুগডাল, তরমুজ ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বরিশালের কৃষকেরা। বিভাগের ৮০ শতাংশ বোরো ধান এখনো খেতে। গত সোমবার দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় ধানখেতে পানি জমে গাছ নুইয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু আজ পুনরায় বৃষ্টি হওয়ায় সেই স্বস্তি হতাশায় রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে মুগডাল ও তরমুজ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী এলাকার বোরো চাষি মাসুদ সরদার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এলাকার ১৫০ জন চাষি মিলে ৩৫ একর জমিতে এবার বোরোর আবাদ করেছিলেন। বৃষ্টিতে পুরো খেত ডুবে গেছে। পানি নিষ্কাশনেরও কোনো পথ নেই।

ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় চাষ করা তরমুজখেত ডুবে গেছে। খেত ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজচাষি ও ব্যবসায়ীরা। বরগুনা সদরের তরমুজ ব্যবসায়ী নাসির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তিনজন মিলে এ বছর ৩০টি তরমুজখেত কিনেছিলাম। সব খেতেই ভালো ফলন হয়েছিল। ভালো লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে যখন বাজারে ভালো দাম, তখনই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে আমাদের সাতটি খেত তলিয়ে গেছে। খেতে হাঁটুপানি থাকায় আমরা তরমুজ সংগ্রহও করতে পারছি না।’

default-image

সদরের বানাই এলাকার চাষি আবদুস সালাম বলেন, ভারী বৃষ্টির পানিতে তরমুজখেত তলিয়ে যাওয়ায় তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ ক্ষতি আর পুষিয়ে ওঠার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

বোরো ধান, তরমুজের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা—এই তিন জেলায় প্রতিবছর অন্তত ২ লাখ মেট্রিক টন মুগডাল উৎপাদিত হয়। এসব ডাল এখনো খেতে। অসময়ের বর্ষণে মুগডালের বেশ ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

বরগুনা সদরের খাজুরতলা গ্রামের কৃষক মাসুদ হাওলাদার বলেন, বৃষ্টিতে মুগের খেত ডুবে গেছে। এখন আর আশা নেই। একইভাবে পটুয়াখালীর বেশ কয়েকটি এলাকার কৃষকেরা জানান, জেলার প্রায় সব মুগডালের খেত পানিতে ডুবে গেছে। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় ৮৬ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল ও স্থানীয় জাতের মুগের আবাদ করা হয়েছে।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক বদরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মূলত তরমুজের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। কিছু কিছু চাষি বেশি লাভের আশায় সব তরমুজ একবারে না তুলে ধীরে ধীরে বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। তাঁদের খেতের তরমুজ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হতে পারে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানিতে কিছু কিছু এলাকার মুগডাল, মরিচসহ রবি ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে তাঁরা কাজ করছেন।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, বেলা পৌনে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সোয়া এক ঘণ্টায় বরিশালে ১৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আজসহ তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন