গতকাল বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন ফসলের খেত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফসলের খেতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ইতিমধ্যে মুগ ডাল রক্ষা করতে খেত থেকে গাছ উপড়ে তুলে নিয়ে সড়কের পাশে শুকানোর চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু খেতেই ডুবে আছে।

রাঙ্গাবালীর সদর ইউনিয়নের নেতা বাজার এলাকার কৃষক আবুল কালাম মুগ ডালের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মুগডাল পরিপক্ব হয়েছে। কিন্তু ঈদের কারণে ডাল তুলতে লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। ডালখেত পানিতে ডুবে গেছে। তাই ডালসহ গাছ তুলে শুকানোর ব্যবস্থা করছি।’

default-image

রাঙ্গাবালীর সদর ইউনিয়নের কাজির হাওলা গ্রামের কৃষক মো. বাইতুন বলেন, এ মৌসুমে তিনি ৭৫ শতাংশ জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তাঁর বাদামখেত ডুবে গেছে। নিচু খেত, তাই সহজে পানি নামছে না। ফসল কীভাবে রক্ষা করবেন, তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় মুগ ফসলের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর, এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। আর ১ হাজার ৫২০ হেক্টর চিনাবাদামের খেত পুরোটাই এখন পানিতে নিমজ্জিত। এ ছাড়া মরিচ, মিষ্টি আলু, তিল ফসলের খেতও বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে সোমবার ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের খেত আক্রান্ত হয়েছে। ফসলের খেত থেকে পানিনিষ্কাশনের পর ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন