শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও নিহত শ্রমিকের স্বজনেরা জানান, করোনায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক বছর ধরে জেলা শহরের পালং স্কুল রোডে খলিল শিকদারের ওয়ার্কশপে কাজ শিখছিল কিশোর ইমন মুন্সী। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় শনিবার সে কর্মস্থলে যায়নি। একটি নির্মাণাধীন ভবনে জরুরি দরজা লাগাতে হবে, এমন কথা বলে ওয়ার্কশপের মালিক তাকে যেতে বলেন। সন্ধ্যার দিকে সে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যায়। সন্ধ্যার পর পৌর শহরের তুলাশার এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে বিদ্যুতের সাহায্যে লোহার দরজার ঝালাইয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিক ইমন ও বিল্লাল হোসেন। একপর্যায়ে লোহার দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এ সময় তাঁরা দুজনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত আটটার দিকে চিকিৎসক ইমন মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিল্লাল হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইমনের মা হালিমা বেগম বলেন, ‘ছেলে আমার অসুস্থ থাকায় কাজে যেতে চায়নি। আমি ভেবেছিলাম, কাজ না করার জন্য সে অসুস্থতার কথা বলছে। আমি জোর করে ছেলেকে কাজে পাঠাইছিলাম। সন্ধ্যার পর খবর পাই, আমার বুকের ধন আমারে ছাইড়া চইলা গেছে। যাওনের আগে আমার মানিকের চেহারাডা খুব মলিন দেখাইছিল। আমার ভুলে আইজ আমার মানিকরে হারাইলাম।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। নিহত শ্রমিকের পরিবার অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও অবহেলায় দুর্ঘটনাটি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন