default-image

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের দিন পাথরঘাটা এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকা অস্ত্রধারী সেই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম আ ফ ম সাইফুদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি। পরিচয় নিশ্চিত হলেও পুলিশ তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অন্যদিকে ভোটের দিন পাহাড়তলী আমবাগান এলাকার অস্ত্রধারী আরেক যুবকের ছবি গণমাধ্যমে বের হয়, তাঁকে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।

গত বুধবার ভোটের দিন দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি গলিতে কালো প্যান্ট ও জ্যাকেট পরা এক যুবক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ এই যুবকের পরিচয় বের করতে সক্ষম হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি পুলিশের কাছে রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে অনেকে জানিয়েছেন। ভিডিওটি দেখেছি। তবে আমি নিশ্চিত নই।’

বিজ্ঞাপন

আমবাগানের অস্ত্রধারী শনাক্ত হয়নি

ভোটের দিন সকালে পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমবাগান ইউসেফ টেকনিক্যাল স্কুলের সামনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে মারা যান দিনমজুর আলাউদ্দিন। ওই সংঘর্ষেও দেখা যায় কালো কোট পরা এক যুবক অস্ত্র তাক করেছেন প্রতিপক্ষের দিকে। তিনি কোন পক্ষের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমবাগানের সংঘর্ষ রেললাইন এলাকায় হওয়ায় মামলা হয়েছে রেলওয়ে থানায়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সোহরাব হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এখনো অস্ত্রটি উদ্ধার হয়নি।

এদিকে প্রচারণা শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় ১২ জানুয়ারি নগরের পাঠানটুলী ওয়ার্ডের মগপুকুর পাড় এলাকায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে আজগর আলী ওরফে বাবুল নামের এক মহল্লা সরদার নিহত হন। এ ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুই দফায় কাদেরকে রিমান্ডে আনা হলেও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার হয়নি। কার গুলিতে মারা গেলেন বাবুল, তাও বের করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (পশ্চিম) শাহাদাত হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া লালখান বাজার ওয়ার্ডে কিরিচ, লোহার রড ও ছুরি নিয়ে একদল যুবক ভোটের দিন ঘোরাফেরা করার ছবি গণমাধ্যমে বের হয়েছে, তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান

এদিকে গুলির শব্দ শুনে উৎস খুঁজতে গিয়ে নগরের একটি বাড়িতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ওই বাড়ির কবুতরের বাসায় কয়েকটি অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একটি গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

গতকাল দুপুরে নগরের ডবলমুরিং থানা-পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাসাটি নিজাম খান নামের এক ব্যক্তির। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী মেহেরুন্নেছা মুক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দুটি পাইপগান ও একটি এয়ারগান রয়েছে। এই ঘটনায় থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক বলেন, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেই গুলির শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে এই কারখানার সন্ধান পায়। বাসাটিতে মূলত পাইপগান তৈরি করা হতো। ভোট নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে নিজাম খান তাঁর প্রতিবেশী শাহ আলমকে গুলি করেন। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাহ আলম বেঁচে যান। গুলির শব্দে চারদিক থেকে মানুষজন বের হলে নিজাম পালিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন