জিন্নাত আলী প্রথম আলোকে জানান, ওই ক্লিনিকে তাঁর স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভর্তি করেন। এর আধা ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়। একজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করতে সেখানে ঢোকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই ক্লিনিকের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। ক্লিনিকের ৫-৬ জন কর্মী শিউলিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে যান। তাঁরা বলতে থাকেন, রোগীর রক্তচাপ কমে গেছে, খুলনায় নিতে হবে। তখন রোগীর স্বজনেরা উত্তেজিত হন। এ অবস্থায় রোগীকে ফেলে ক্লিনিকের প্রধান ফটক আটকে দেন কর্মীরা। একজন চিকিৎসক দ্রুত বের হয়ে ক্লিনিক থেকে চলে যান। পেছনের দরজা দিয়ে অন্যরা পালিয়ে যান। এ সময় শিউলিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গর্ভজাত সন্তানটি তাঁর পেটের মধ্যেই আছে।

জিন্নাত আলী বলেন, ‘আমার চার বছরের একটি মেয়ে আছে। তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তাই থানায় অভিযোগ করিনি। শুক্রবার রাতেই লাশ দাফন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে ওই ক্লিনিক মালিক শাহীন সাজ্জাদের মুঠোফোনে কয়েক দফা কল করা হলেও তিনি ধরেননি। সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিকে শুধু মাহফুজা খানম নামে একজন অভ্যর্থনাকর্মী (রিসেপশনিস্ট) ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোগীর প্রেশার (রক্তচাপ) কম ছিল, সিজার করার আগেই রোগী মারা গিয়েছিলেন। কীভাবে মারা গেছেন, তা জানি না।’

নড়াইলের সিভিল সার্জন নাছিমা আকতার শনিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনা জানার পর আজ কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজল মল্লিককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সবকিছু জানা যাবে।

এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত সাহা বলেন, ঘটনার সময়ে খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পুলিশ গিয়েছিল। রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ না করায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালটি চার বছর ধরে চললেও সেখানে সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসক থাকেন না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সও নেই। অস্ত্রোপচারকক্ষের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। এর আগেও এখানে কয়েকজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করেছে।

হাসপাতালে সার্বক্ষণিক কোনো চিকিৎসক থাকেন কি না এবং ওই প্রসূতিকে কোন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করছিলেন, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভ্যর্থনাকর্মী মাহফুজা খানম কথা বলতে রাজি হননি।

চিকিৎসকের বিষয়ে রোগীর স্বজনেরাও কিছু জানাতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরিফুল নামের একজন চিকিৎসক ওই অস্ত্রোপচার করতে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

নিবন্ধন ছাড়াই হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চলার বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন নাছিমা আকতার বলেন, মালিকপক্ষ নিবন্ধনের জন্য গত বছর ও এ বছর আবেদন করেছে। পরিদর্শনের পর নিবন্ধন দেওয়া যায় কি না, সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন