বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডে ২২ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। বাসিন্দা আছে ৭৬ হাজার। গত জুন ও জুলাই মাসে কর পুনর্মূল্যায়নের কার্যক্রম শুরু হয়। পৌরসভার কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর নির্ধারণের কাজ করেন। এরপর পৌরসভা থেকে নোটিশের মাধ্যমে করদাতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৬ সালে একবার গৃহকর বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

নোটিশ পাওয়া ১৫ বাড়িমালিকের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁদের অভিযোগ, অস্বাভাবিক হারে গৃহকর বাড়ানো হয়েছে। তা পরিশোধেরও সামর্থ্য নেই অনেকের।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ছোট একটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন তাঁরা। এখন ২০০ টাকার জায়গায় ২ হাজার ২০০ টাকা গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কীভাবে সম্ভব?

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হোসেন বলেন, তাঁর একতলা বাড়ির পৌরকর ছিল ২ হাজার টাকা। একই বাড়ির জন্য এখন ৪০ হাজার ২০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এত টাকা কোত্থেকে থেকে দেবেন, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন তিনি।

পৌরসভার ম্যানুয়ালের তৃতীয় অধ্যায়ের ২৩ অনুচ্ছেদে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে হোল্ডিংকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—সম্পূর্ণ ভাড়া দেওয়া, মালিক নিজে বসবাসের এবং আংশিক ভাড়া দেওয়া গৃহ। বাড়িভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণ করা হয়। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরের দুই মাসের ভাড়ার টাকা করের আওতামুক্ত থাকবে। বাকি ১০ মাসের ভাড়ার টাকার ওপর ২৭ শতাংশ গৃহকর দিতে হয়।

করদাতাদের আপত্তির ওপর শুনানির জন্য ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানি চলছে।

* ১৫টি ওয়ার্ডে ২২ হাজার হোল্ডিং। বাসিন্দা ৭৬ হাজার। * আগের তুলনায় গৃহকর বেড়েছে ১০ থেকে ৭০ গুণ।

নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলর বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ধার্য করা গৃহকর নিয়ে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। পৌর এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর বা দোকান বিক্রি করে দেওয়ার কথাও বলছেন।

পরিচ্ছন্নতা, সড়ক আলোকায়ন ও পানির জন্য গৃহকর নেওয়া হলেও এর বিপরীতে পৌরসভার সেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পৌরবাসীর। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর রাস্তাঘাট ভাঙা থাকে। নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করা হয় না। পানিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এরপরও গৃহকর বাড়ানো হয়।

পৌরসভার বাসিন্দা মামুনুর রশিদ জানান, লক্ষ্মীপুর ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত পৌরসভা হলেও এখানে নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভাঙাচোরা ও অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, অপরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা। সন্ধ্যার পর থেকে মশার উপদ্রব আর অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ সমস্যার কারণে জলাবদ্ধতা এখানে নিত্যসঙ্গী। রয়েছে সড়কবাতি ও পানির সংকট।

আন্দোলনে পৌরবাসী

গৃহকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। পৌর মেয়র আবু তাহের জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাছুম ভূঁইয়া বলেন, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকার মানুষকে জিম্মি রাখতে কৌশল করে নতুন কর বৃদ্ধির চক্রান্ত করেছেন মেয়র আবু তাহের। তিনি বলেন, এত ব্যবধান কীভাবে হয়? কারও ১০ গুণ, কারও ৭০ গুণ।

তবে পৌর মেয়র আবু তাহেরের দাবি, নিয়ম মেনে কর বাড়ানো হয়েছে। যাঁদের আপত্তি আছে, তাঁদের কর কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান খান বলেন, এমনিতেই করোনাকালীন মানুষ চরম সংকটে রয়েছে। কর বৃদ্ধির নোটিশে তাঁরা দিশেহারা, ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন