default-image

রাজশাহীর বাগমারায় স্লোগান দিয়ে কৃষকদের পাঁচটি সেচযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে উপজেলার বড় বিহানালী গ্রামের বিলসতী বিলের প্রায় ১০০ একর জমির ধানখেতে সেচ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য আজাহার আলী বিলসতী বিলের মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতিসহ দুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে ১০ থেকে ১২ জন বড় বিহানালী গ্রামের বিলসতি বিলে যান। তাঁরা সাবেক ইউপি সদস্য আজাহার আলীর নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচটি শ্যালো মেশিনের ঘরে হামলা চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাঁরা ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন’ বলে স্লোগান দেন।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পাহারাদারেরা পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে দুর্বৃত্তরা পাঁচটি মেশিনে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও আশপাশের খেতের ধানগাছ নষ্ট করে। পালিয়ে যাওয়া পাহারাদারেরা ঘটনাটি সাবেক ইউপি সদস্যকে জানালে তাঁর লোকজন প্রতিরোধ করতে আসেন। এর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় বাগমারা থানায় করা অভিযোগে বিলসতী বিল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি অমূল্য হাওলাদার, সদস্য আলাউদ্দিনসহ আরও আট থেকে দশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আজাহার আলীর অভিযোগ, তিনিসহ আরও কয়েকজন বিলসতী বিলের খাসজমি ইজারা নিয়ে ধানখেতে পানি সেচ ও মাছ চাষ করে আসছিলেন। মৎস্য চাষ প্রকল্পের লোকজনের সেখানে জোর করে মাছ ধরেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরাই সেচযন্ত্র পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ এপ্রিল রাতে ওই বিলের একটি কুয়া থেকে পানি সেচের সময় মৎস্য চাষ প্রকল্পের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চারজন আহত হন। কুয়াটি আজাহার আলীর দখলে আছে। তাঁর লোকজনই হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ধরে প্রতিপক্ষরা গতকাল রাতে পাল্টা হামলা চালান।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি অমূল্য হাওলাদার কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন