মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা রোগীর আত্মীয়স্বজনকে চাপ দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এ ছাড়া তাঁরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আসছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক ইব্রাহীম আজাদকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করেন।

গতকাল রাতে অ্যাম্বুলেন্সচালকদের গ্রেপ্তারের পর মোটর পরিবহনশ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা চালকদের মুক্তির জন্য থানায় উপস্থিত হন। পুলিশ তাঁদের কথায় সাড়া না দিলে আজ সকাল থেকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। আজ বেলা দেড়টা পর্যন্ত দিনাজপুর শহরের দশমাইল এলাকা থেকে কাউগা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।

হঠাৎ সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। শহরের কলেজ মোড় এলাকায় কথা হয় ট্রাকচালক কুরবান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও থেকে আলু নিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন। কিন্তু ভোর থেকে তিনি কলেজ মোড়ে বসে আছেন।

মির্জাপুর এলাকার ভ্রাম্যামাণ কাপড় ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ‘সৈয়দপুর থেকে মাল এনে দিনাজপুর শহরে বিক্রি করি। সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস চলছে না। রাস্তা অবরোধ করে রাখছে। এক দিন ব্যবসার ক্ষতি মানে আমাদের ৫০০ টাকা লোকসান। ’

দিনাজপুর মোটর পরিবহনশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘হাসপাতালের কয়েকজন ওয়ার্ড মাস্টার রোগীদের জিম্মি করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা শুরু করায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পুলিশ মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের শ্রমিকদের আটক করেছে। এ ছাড়া হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে পাগলু চলাচলকে বৈধ্যতা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পাগলুচালকেরা আমাদের শ্রমিকদের মারধর করছেন। থানায় মামলা দিতে গেলে থানা-পুলিশ আমাদের মামলা নিচ্ছে না। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়া ও পাগলুচালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ’

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অ্যাম্বুলেন্সচালকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শ্রমিকদের মামলা গ্রহণ করা হয়নি—এ কথা সত্য নয়। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই পক্ষের মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন