বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ‘বৈষম্য বিলোপ আইন খসড়া হয়ে থাকলেও তা সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে না। এই আইন হলে সরকারের কী ক্ষতি হবে? সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখছি না। কিন্তু এত সহজে আমরা আমাদের অধিকার ছেড়ে দেব না। কারণ, মানবাধিকার হচ্ছে সবার সমান অধিকার।’

সেমিনারে বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪১ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা মামলার ৫৫ শতাংশ আবেদনও ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ভুক্তভোগীদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে ডিক্রি হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসককে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান আলোচকেরা।

সেমিনারের আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় থাকার পরও বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তা প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে না। ডিসি-এসি ল্যান্ডরা আবার কাগজপত্র নিয়ে বিচার করতে বসেন। আদতে সে ক্ষমতা তাঁদের নেই।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে আমাদের আর কত বছর আন্দোলন করতে হবে তা জানি না। কোনো অবস্থায় আমলারা এই সম্পত্তি ফেরত দিতে চান না। একটার পর একটা অজুহাত তারা দাঁড় করান। আইনটি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন, তা ভ্রুক্ষেপ না করে আমলারা বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করছেন।’

অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে ৪০ বছর ধরে আন্দোলন করলেও সুফল মিলছে না। সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে দরকার সরকারের সদিচ্ছা এবং দোষী ব্যক্তিদের সাজা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উপপরিচালক বরকত আলী বলেন, ‘আমরা দেখি শুধু একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে দিনের পর দিন কাউকে আটকে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর যারা আক্রমণ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।’

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমারের সভাপতিত্বে ও রূপান্তরের প্রকল্প সমন্বয়কারী অসীম আনন্দের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিক আহমেদ সিরাজী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন