default-image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনকে (৪৮) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা নগরের চাঙ্গিনী এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী আক্তার হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন আলমগীর হোসেন। জেলা ও দায়রা জজ আতাবুল্লাহ জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১০ জুলাই বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে কুমিল্লা নগরের চাঙ্গিনী এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মী আক্তার হোসেনকে (৫৫) মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাই আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর আমির হোসেন দেড় মাস, জাহাঙ্গীর ও বিল্লাল হোসেন তিন মাস কারাগারে ছিলেন। এরপর তাঁরা জামিনে বের হন।

গত ৬ জানুয়ারি কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জন্য জামিন নেন। হত্যাকাণ্ডের পর গত বছরের ২৪ জুলাই কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আজ কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর হয়।
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জন্য জামিন নেন। হত্যাকাণ্ডের পর গত বছরের ২৪ জুলাই কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আজ কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর হয়।

এই মামলার ১০ আসামির মধ্যে শুধু আলমগীর কারাগারে গেলেন। আটজন জামিনে আছেন। আর একজন পলাতক।
রেখা বেগম, মামলার বাদী

মামলার বাদী রেখা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, এই মামলার ১০ আসামির মধ্যে ৯ নম্বর আসামি জুবায়ের হোসেন পলাতক। তিনি মামলার আরেক আসামি আমির হোসেনের ছেলে। অপর নয়জন আসামির মধ্যে শুধু আলমগীর কারাগারে গেলেন। আটজন জামিনে আছেন।

এ নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর এখন কারাগারে। এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুস সত্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত বছরের ১১ নভেম্বর যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার মামলার ২ নম্বর আসামি সত্তার। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আবদুস সত্তারের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি দেলোয়ারের পরিবারের। পিবিআই তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন