পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পিএমখালীর চেরাংঘর বাজার এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে মোর্শেদ আলীকে রাস্তায় ফেলে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পেটান। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শতাধিক মানুষ এ ঘটনা দেখলেও কেউ মোর্শেদ আলীকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি। মোর্শেদ আলী পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার মৃত ওমর আলীর ছেলে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস রাতে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ব্যক্তির ভাই জাহেদ আলী বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এর মধ্যে তিন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেককে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া ২ নম্বর আসামি মাহমুদুল হক, ৩ নম্বর চেরাংঘর বাজার কমিটির সভাপতি দিদারুল ইসলাম, ৬ নম্বর পিএমখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা। ২৬ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও মামলায় ৮-১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল মোস্তফা, আবদুল মালেক, মাহমুদুল হকসহ অন্য আসামিরা আত্মগোপন করেছেন।

মামলার বাদী জাহেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সেচ প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে নিতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে মোর্শেদকে পেটানোর পর কুপিয়ে হত্যা করেছেন। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক, মাহমুদুল হক, জয়নাল আবেদীন, কলিম উল্লাহসহ ৩৫ থেকে ৪০ জন সরাসরি অংশ নিলেও মূল নির্দেশদাতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা।

জাহেদ আলী আরও বলেন, ইফতার কিনতে মোর্শেদ আলী চেরাংঘর বাজারে যান। সেখানে আবদুল মালেক ও মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মোর্শেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। রোজায় ক্লান্ত মোর্শেদ তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীদের উদ্দেশে মোর্শেদ বারবার বলছিলেন, সারা দিন রোজায় তিনি খুব ক্লান্ত, মারলে যেন ইফতারের পরে মারেন। কিন্তু তাতেও তাঁদের মন গলেনি। ইফতারের আগমুহূর্তে বর্বরভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিরাজুল মোস্তাফা, আবদুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুজনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি একটি সেচ প্রকল্পের ইজারা চালাত মোর্শেদ আলীর পরিবার। বর্তমানে ওই প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন আসামি মাহমুদুল হক। দুই মাস আগে সেচ প্রকল্পের একটি পাম্প কে বা কারা চুরি করে। পুলিশ সেই পাম্পটি উদ্ধারও করে দেয়। এ ঘটনায় মাহমুদুল হক পাম্প চুরির অভিযোগে মোর্শেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় মোর্শেদসহ আসামিরা জামিনে ছিলেন। ওই প্রকল্পটি নতুন করে ইজারা দেওয়ার কথাবার্তা চলছে। সম্প্রতি ইজারার জন্য মোর্শেদের পরিবার আবেদন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোর্শেদের ওপর হামলা চালান প্রতিপক্ষরা।

গতকাল বিকেলে পিএমখালীতে নিহত মোর্শেদের জানাজার নামাজে কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন। মুসল্লিদের উদ্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হলেও তাঁদের রক্ষা নেই। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজদের জায়গা আওয়ামী লীগে হবে না জানিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, মোর্শেদের পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন