default-image

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় শারীরিক নির্যাতনে শিশু গৃহকর্মী সাদিয়া পারভীনের (১০) মৃত্যুর ঘটনায় গৃহকর্তা আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিবকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার দুপুরে শেরপুর শহরের নয়আনী বাজার এলাকার ডিসি গেট মোড়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘আমাদের আইন’ শেরপুর জেলা শাখা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

আহসান হাবিব শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আহসান হাবিবের স্ত্রী রুমানা জামান বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন। নিহত সাদিয়া শ্রীবরদী পৌর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন জাসদ শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, সাংবাদিক মাসুদ হাসান, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নূর ই আলম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, মানবাধিকারকর্মী মাহবুবুল আলম, নূর ই জান্নাত, সাইফুল ইসলাম, শান্ত রায়, কৃষ্ণ ঘোষ, শাখাওয়াত হোসেন, কাকন সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গৃহকর্মী সাদিয়া পারভীনকে নির্যাতন করে হত্যার দায় শুধু গৃহকর্ত্রী রুমানা জামানের একার নয়, গৃহকর্তা আহসান হাবিবেরও। কারণ, আহসান হাবিব প্রতিবাদ করলে হয়তো গৃহকর্মী সাদিয়াকে এমন করুণ পরিণতি ভোগ করতে হতো না। আহসান হাবিবের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই তাঁর স্ত্রী রুমানা জামান গৃহকর্মী সাদিয়াকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তাই এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিবকে আইনের আওতায় এনে তাঁকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মানববন্ধনে শেরপুর প্রেসক্লাব, বিডি ক্লিন, শেরপুর ইয়ং রিপোর্টার্স ইউনিটি, জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, রক্ত সৈনিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীবরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গৃহকর্তা আহসান হাবিবের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিবের স্ত্রী রুমানা জামানের শারীরিক নির্যাতনে শিশু গৃহকর্মী সাদিয়া পারভীন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে রুমানা জামানের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মন্তব্য পড়ুন 0