default-image

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (বহিষ্কৃত) আকবর হোসেন ভূঁঞাকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ। হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আকবরকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সিলেটের সীমান্ত উপজেলা কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাঁকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, গতকাল রোববার পুলিশ তথ্য পায়, আকবর কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। এ জন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের এ দলে নেতৃত্ব দেন কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে একটানা তিন দিন বিশেষ নজরদারিতে ছিলেন আকবর। সোমবার সকাল নয়টায় সাদাপোশাকে জেলা পুলিশ আকবরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিলেট রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মফিজ উদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, অপরাধ করে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধী যেই হোক, যে বাহিনীরই হোক, তাঁকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টায় ছিল পুলিশ। সে চেষ্টা সফল।

বিজ্ঞাপন

প্রেস ব্রিফিংয়ের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিদর্শক আওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে আসা পিবিআইয়ের একটি দলের কাছে আকবরকে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় আকবর হাত দিয়ে মুখ আড়াল করে রেখেছিলেন। পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের পর তাঁর মাথায় হেলমেট পরানো হয়।

আকবরসহ বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মো. রায়হান নিহতের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হলেন। পিবিআই সূত্র জানায়, টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ নামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজন কনস্টেবলকে মহানগর পুলিশ লাইনস থেকে পিবিআই গ্রেপ্তার দেখায়। পরে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার হওয়া এএসআই আশেক এলাহীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এ তিনজনের মধ্যে টিটু ও হারুনকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁরা আদালতে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। এএসআই আশেককে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন তিনি হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখান থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0