বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সিটি করপোরেশন এলাকার আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টায় দেখা গেল টিকা নেওয়ার সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মানুষ বেশি। টেলিভিশন থেকে জেনে বা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শুনে টিকা দিতে এসেছেন তাঁরা।

আদর্শপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারেস উদ্দিন (৬৮) বলেন, ‘হঠাৎ জানতে পারি দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হইবে। তাই ছুটি আসছি।’ একই এলাকার জোবেদা খাতুন (৬২) বলেন, ‘হামরা টেলিভিশনের খবর শুনি আসছি। পরে জানবার পাইছি দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হইবে। তাই সকাল সকাল আসছি।’

বেলা ১১টায় আকাশের মেঘ কেটে যায়। এ সময় রংপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছুটা ভিড় দেখা যায়। তিন কিলোমিটার দূরের সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়া এলাকা থেকে এসেছেন হামিদ মিয়া (৬০)। তিনি বলেন, ‘মানুষের মুখে মুখে শুনিয়া ছুটি আসছি। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হইল।’ এই কেন্দ্রে টিকার জন্য এসেছেন তিন কিলোমিটার দূরের গণেশপুর বকুলতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলম (৬৮)। তিনি বলেন, এবার টিকা দেওয়ার জন্য প্রচার কম ছিল। তাই লোকজন কম আসছেন।

নগরের কেরামতিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। এখানে আসা এখলাছ হোসেন (৬৫) তাঁর টিকার কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তির নিবন্ধন নম্বর সংগ্রহ করেন টিকাদানকেন্দ্রের কর্মীরা। ওই নম্বর দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপ থেকে নতুন কার্ড নেওয়া হয়। এরপর তাঁর টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।

রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিউ জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকাপ্রত্যাশী মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাজ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সোমবার সিটি করপোরেশন এলাকায় মাইকে প্রচারণা চালানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজেদের উদ্যোগেও প্রচার করেছেন।

প্রথম ডোজের থেকে দ্বিতীয় ডোজের জন্য টিকাপ্রত্যাশীদের ভিড় কম প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান বলেন, এসব টিকাপ্রত্যাশীর অনেকের সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করা ছিল। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তাও গেছে। প্রথম ডোজ দেওয়ার পর ২৮ দিন চলে যাওয়ায় ৪ তারিখ থেকে অনেকেই রংপুর মেডিকেল কলেজকেন্দ্রে গিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। তা ছাড়া গতকাল রাতে বৃষ্টি হয়েছে। আজ সকাল থেকে আকাশের অবস্থা খারাপ। এসব কারণে মানুষ কম এসেছেন। তবে আগামীকাল বুধবারও অনেকে দিতে আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন