default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফার এক সমর্থকের বিরুদ্ধে আরেক মেয়র প্রার্থী নুরুল হক ভূঁইয়াকে জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এ ঘটনায় আখাউড়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের সড়কবাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নুরুল হক ভূঁইয়া আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান এবং আখাউড়া পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র। তিনি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। গতকাল রাতে থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান মেয়রের সমর্থক সোহাগ মোল্লার নাম উল্লেখ করেছেন। সোহাগ উপজেলার দেবগ্রামের কাদের মোল্লার ছেলে।

আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা মেয়র পদে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পান। গতকাল রাতে সোয়া নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাঁর নাম ঘোষণা করে।

স্থানীয় লোকজন, মেয়র প্রার্থী নুরুল হক ভূঁইয়া ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সড়কবাজারে সাইফুল ইসলামের চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া। সে সময় কেন্দ্র থেকে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আখাউড়ায় বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফার নাম ঘোষণা করা হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বেগের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলের পেছনে থাকা সোহাগসহ আরও কয়েকজন ওই চায়ের দোকানে যান। বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সোহাগ মেয়র প্রার্থী নুরুল হক ভূঁইয়াকে জুতা দিয়ে পেটান। পরে এ ঘটনায় তিনি রাতেই আখাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

নুরুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ওই দোকানে বসে চা পান করছিলাম। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বর্তমান মেয়রের পক্ষে উপজেলায় আনন্দ মিছিল বের হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মিছিলের পেছন থেকে সোহাগসহ কয়েকজন চায়ের দোকানে আসেন। সোহাগ আমাকে লাঞ্ছিত করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। মেয়র প্রার্থী হওয়ায় সোহাগ এমনটি করেছেন।’

আখাউড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও মেয়দ পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া তাকজিল খলিফা বলেন, নুরুল হক ভূঁইয়াকে জুতাপেটা করার ঘটনা তিনি জানেন না। তিনি ঢাকায় আছেন। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। যদি সে দলের কেউ হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল আহমদ বলেন, ‘নুরুল হক ভূঁইয়ার অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়ায় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে গতকাল পর্যন্ত ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগের পাঁচজন ও বিএনপির একজন। তাঁরা হলেন বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোবারক হোসেন, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম খান। আর বিএনপির নেতা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদনী ওরফে আব্দু মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচন। ১৭ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১০। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ২৩১ ও নারী ১৪ হাজার ৬৭৯ জন।

মন্তব্য করুন