বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

উপজেলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ইউএনও রুমানা আক্তার। ঘরের নির্মাণকাজ তদরকির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাপস চক্রবর্তী ও উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম।

গতকাল সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত উপজেলার রাজাপুর, চানপুর, সাতপাড়া, খলাপাড়া, ঘাগুটিয়া, কর্মমঠ এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহ্গীর আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ তদন্ত কমিটির তিন সদস্য, আখাউড়ার ইউএনও, এসিল্যান্ড, পিআইও, উপজেলা প্রকৌশলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক এ সময় সঙ্গে করে শহর থেকে একজন শ্রমিক নিয়ে যান।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিয়ম অনুযায়ী, রড, ইট, সিমেন্ট ও বালু দেওয়া হয়েছে কি না, যাচাই করতে প্রতিটি প্রকল্পের একাধিক ঘরের গ্রেড ভিম ও লিংটার ভেঙে দেখেন। এ সময় নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পায় জেলা প্রশাসক ও তদন্ত কমিটি।

এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে দেখা গেছে, গ্রেড ভিমে ১২ মিলিমিটার ব্যাসের চারটি রডের স্থলে কোথাও কোথাও ১০ মিলিমিটারের তিনটি রড এবং লিংটারে ১০ মিলিমিটার ব্যাসের চারটি রডের স্থলে ৮ মিলিমিটারের তিনটি করে রড দেওয়া হয়েছে। অনেক ঘরের লিংটারে কোনো রডই দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক ঘরের গ্রেড ভিম ও লিংটারে ছয় ইঞ্চি পরপর রডের রিং থাকার নিয়ম রয়েছে, যা মানা হয়নি।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিটি ঘর থেকে ২৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাঁদের সম্প্রতি ঈদের কেনাকাটার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসব কাজ করছেন। আমি শুধু নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করছি।’

এসব ঘরের নির্মাণকাজে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন ইউএনও রুমানা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুই ঠিকাদার পরিচিত। বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁদের কাজ দেওয়া হয়েছিল। ঢালাইয়ের সময় আমরা উপস্থিত থাকতে পারিনি। এটা আমাদের গাফিলতি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহ্গীর আলম বলেন, ‘সাতজন মানুষের জন্য এসব ঘরের নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে। এটা জেলার জন্য বদনাম। এ অনিয়মের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও, এসিল্যান্ড, পিআইও, উপজেলা প্রকৌশলী—কেউই এসব কাজের তদারকি করেননি, পরিদর্শনে যাননি, ঢালাইয়ের সময়ও যাননি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঘরগুলোর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন