default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর বিএনপির কমিটিতে অন্য উপজেলার বাসিন্দাকে আহ্বায়ক করায় চার প্রবীণ নেতা পদত্যাগ করেছেন। দলের কারও সঙ্গে পরিচয় নেই এমন ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করায় নতুন ঘোষিত কমিটির ওই চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে তাঁরা পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। কমিটি গঠন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পৌর বিএনপির সভাপতি থাকা বাহার মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্তাজ মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পদত্যাগ করেন। তাঁরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

দলের কারও সঙ্গে পরিচয় নেই এমন ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করায় নতুন ঘোষিত কমিটির ওই চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে তাঁরা পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেলিম ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও আক্তার খানকে সদস্যসচিব করে আখাউড়া পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ১৬ জানুয়ারি জিল্লুর নিজের ফেসবুকে এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে কমিটি ঘোষণা করেন। পরদিন ওই চার নেতা পদত্যাগ করেন।

আহ্বায়ক পদ পাওয়া সেলিম ভূঁইয়া আখাউড়ার বাসিন্দা নন, তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার বরিশাল গ্রামে। তিনি সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। আখাউড়া পৌর বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান ওরফে সানির বড় ভাই কবির আহমেদের চাচাতো ভাই সেলিম ভূঁইয়া। কবির আহমেদ বরিশাল গ্রামের বাসিন্দা ও ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। কবির আখাউড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তিনিই মূলত সেলিম ভূঁইয়ার আহ্বায়ক পদ পাওয়ার পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছেন।

বিজ্ঞাপন
এই কমিটির পেছনে কবির আহমেদের হাত রয়েছে এবং তিনি যে আগে ছাত্রলীগ করতেন এ বিষয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পদ না পেলে অনেকে অনেক কিছুই বলে। আমিও আগে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। যেকোনো সময় মতাদর্শ পরিবর্তন হতে পারে।’

চার নেতার পদত্যাগপত্র সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহমান ও কবির আহমেদের চাচাতো ভাই হওয়ায় সেলিমকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সেলিম পৌর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না। পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ড বিএনপির কেউই তাঁকে চেনেন না। সদস্যসচিব আক্তার খান একজন শ্রমিকনেতা। তাঁর সঙ্গেও পৌর বিএনপির কারও সম্পর্ক নেই। সদ্য বিলুপ্ত আখাউড়া পৌর বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি থেকে মাত্র ৭ জনকে আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাহাদাত হোসেনকে সদস্য পদেও রাখা হয়নি। নবঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির ২৪ জন সদস্যের মধ্যে দুই-একজন ছাড়া অন্য সদস্যরা কেউ কখনোই দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমনকি তাঁদের কেউ চেনেনও না। ফেসবুকে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর পৌর বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী উপজেলার ইউনিয়ন কমিটির নেতা কীভাবে আখাউড়া পৌর বিএনপির কমিটিতে আহ্বায়ক হন, এটি একটি প্রশ্ন। এই আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের অধীনে সদস্য পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

এই চার নেতা বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর আখাউড়া পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান কমিটি বিলুপ্তির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট পৌরসভার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু জিল্লুর রহমান পৌর কমিটির কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

নতুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করা বাহার মিয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ১৯৯৯ সালে আমি এক মাস কারাভোগ করেছি। আমার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। ২০১৩ সালে আমার ছেলে ও ভাতিজার নামে দুটি মামলা হয়, যা এখনো চলমান।’

সদর উপজেলার বাসিন্দা যদি আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও আখাউড়া পৌরসভার মেয়র হতে পারেন, তাহলে সেলিম কেন হতে পারবেন না। আমরা নতুনদের জায়গা দিচ্ছি। দলে ইয়াং ফোর্স দরকার।
জিল্লুর রহমান, আহ্বায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি

মন্তাজ মিয়া বলেন, ‘আমি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী। বর্তমান ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই অতীতে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।’

আতিকুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ৪২ দিন কারাভোগ করেছি। আর এখন কমিটিতে নতুন নতুন মুখ। বাহার ভাই ছাড়া সবাই রাজনৈতিকভাবে আমার জুনিয়র।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার বাসিন্দা যদি আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও আখাউড়া পৌরসভার মেয়র হতে পারেন, তাহলে সেলিম কেন হতে পারবেন না। আমরা নতুনদের জায়গা দিচ্ছি। দলে ইয়াং ফোর্স দরকার।’ এই কমিটির পেছনে কবির আহমেদের হাত রয়েছে এবং তিনি যে আগে ছাত্রলীগ করতেন এ বিষয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পদ না পেলে অনেকে অনেক কিছুই বলে। যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করবেন। আমিও আগে ছাত্র ইউনিয়ন করতাম। যেকোনো সময় মতাদর্শ পরিবর্তন হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন