ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে উভয় দেশের সরকারের অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে আটকা পড়া যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তোলা ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে উভয় দেশের সরকারের অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে আটকা পড়া যাত্রীরা যাতায়াত করছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তোলা ছবিপ্রথম আলো

আখাউড়া-আগরতলার সীমান্ত দিয়ে গত তিন দিনে ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকার ৬৩ জনের মধ্যে ৩৪ জন ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। অপর দিকে গত তিন দিনে ভারতে আটকা পড়া ৩৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশেই আটকা পড়া নাগরিকেরা কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করে যাতায়াত করতে পারছেন। বর্তমানে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ফল, উভয় দেশে নিযুক্ত হাইকমিশনারের অনুমতি ও অনাপত্তিপত্র এবং করোনার টিকার প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া নাগরিকেরা আসা-যাওয়া করতে পারছেন।

বর্তমানে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ফল, উভয় দেশে নিযুক্ত হাইকমিশনারের অনুমতি ও অনাপত্তিপত্র এবং করোনার টিকার প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া নাগরিকেরাই কেবল আসা-যাওয়া করতে পারছেন।

ইমিগ্রেশন সূত্রে আরও জানা গেছে, সাধারণ যাত্রীদের আসা-যাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এসে আটকা পড়া ভারতীয় নাগরিক এবং বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য ভারতের বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়া বাংলাদেশি নাগরিকেরা আখাউড়া-আগরতলা সীমান্ত দিয়ে আসা–যাওয়া করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনারের এনওসি অর্থাৎ অনাপত্তিপত্র লাগবে। বর্তমানে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা আখাউড়া ইমিগ্রেশনে পাঠিয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রদত্ত এই ৬৩ জনের তালিকার মধ্যে গত মঙ্গলবার ১৮ জন, গতকাল বুধবার ৯ জন এবং আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ৭ জন ভারতীয় নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আর ভারতে আটকা পড়া নাগরিকদের মধ্যে মঙ্গলবার ৬ জন, বুধবার ১৮ জন এবং বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিজে দেশে ফিরেছেন।

বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে আসা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মৌসুমী জামদানি শাড়ির স্বত্বাধিকারী মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত গুয়াহাটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ারে প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ৭ এপ্রিল ভারতে যাই। ২১ এপ্রিল মেলা শেষ হয়। করোনার কারণে ভারতে যাতায়াতে কষ্ট পোহাতে হয়েছে। আর গুয়াহাটিতে সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ জারি রয়েছে।’

default-image

সরেজমিনে দেখা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি হেলথ ডেস্ক বসানো। টিন ও কাচঘেরা ওই হেলথ ডেস্কে একজন চিকিৎসক ও একজন স্বাস্থ্য সহকারী বসেন। তাঁরা উভয় দেশের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তাঁরা সাধারণত উভয় দেশের নাগরিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপেন এবং ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ও অ্যালার্জিজনিত কোনো সমস্যা আছে কি না, যাচাই করেন।

স্বাস্থ্য সহকারী আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে থাকাকালীন সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর যন্ত্রে করা করোনার পরীক্ষার নেগেটিভ ফল এবং সংশ্লিষ্ট হাইকমিশনের অনুমতিপত্র দেখাতে হবে। বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকের বেলায়ও একই কাগজ দেখাতে হবে। রোগীদের বিস্তারিত তথ্য দেখে চিকিৎসক তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বা হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেন।

আখাউড়া স্থলবন্দরের হেলথ ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, ২২ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারতে আটকা পড়া বাংলাদেশি নাগরিক স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসতে পারবেন বলে নির্দেশনা জারি করেন। এ ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিনের কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেন মন্ত্রী।

ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের যাঁদের করোনার টিকার নেগেটিভ সনদ আছে এবং যাঁরা করোনার টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ফারহানা আক্তার, আখাউড়া ইমিগ্রেশনে হেলথ ডেস্কের চিকিৎসক

এসব বিধিনিষেধের বিস্তারিত জানিয়ে আখাউড়া ইমিগ্রেশনে হেলথ ডেস্কে বসা চিকিৎসক ফারহানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের দুটি বিষয় দেখছেন তাঁরা। একটি, সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা অ্যান্টিজেন বা আরটি-পিসিআরে করা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ ফল। তবে তাঁরা আরটি-পিসিআরের ফলকে গুরুত্ব দেন বেশি। ফল নেগেটিভ হলে তাঁদের আখাউড়ায় তিন দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন এবং ১১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যাঁদের করোনার টিকার নেগেটিভ সনদ আছে এবং যাঁরা করোনার টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর যাঁরা করোনার টিকার একটি ডোজ বা কোনো ডোজ নেননি, তাঁদের তিন দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে করোনার নেগেটিভ ফল এলে তাঁদের ১১ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিকের একটি তালিকা পেয়েছি। এই তালিকার ১৮ জন বেলা তিনটা পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।’ তিনি বলেন, একইভাবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে আসতে হবে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ আলম প্রথম আলোকে বলেন, গত তিন দিনে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে ১৭ জনকে তিন দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসক। পরে তাঁদের করোনার পরীক্ষার নেগেটিভ ফলের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন