বিজ্ঞাপন

করোনা শনাক্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে এক তরুণের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে (২১), এক তরুণীর (২৪) বাড়ি চট্টগ্রাম বাকলিয়ায় ও অপর ব্যক্তির বাড়ি চট্টগ্রামে (৪২)। চট্টগ্রামের দুই পুরুষ ১ মে ও এক তরুণী গত ৩০ মে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন। গত ৭ মে করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল রাতে তাঁদের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে।

এর আগে গত ৮ মে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা এক ব্যক্তি করোনা পজিটিভ হন। তিনি কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। গত ২৫ মে তাঁরা দেশে ফিরেছেন। আর গত সোমবার তাঁদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন পূর্ণ হয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত নন। তারপরও গত মঙ্গলবার দুপুরে করোনায় আক্রান্ত স্বামীর সঙ্গেই তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে যান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৬ এপ্রিল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের নাগরিক রয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল সিলেটের ভারতীয় দূতাবাসে নিযুক্ত ১২ ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ২৮ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন। গত ২৬ এপ্রিল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত শুরু হয়। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা ১ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে গত রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ৮২ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত শুরু হয়। গত সোমবার স্থলবন্দর দিয়ে ৪৩ বাংলাদেশি ফিরেছেন। একই দিন ভারতে গেছেন ৩ জন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের কুমিল্লায় কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। স্থলবন্দর দিয়ে আসা এখন পর্যন্ত ৩১৭ বাংলাদেশিকে কুমিল্লায় কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন পূর্ণ করায় এখন পর্যন্ত মোট ভারতফেরত ১ হাজার ৮২ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৩১ জন ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্তমানে ১০টি কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩৫৩ বাংলাদেশি।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-এ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮২ জন ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে জেলায় ৩৫২ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। আর গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ৫৪৫ জন বাংলাদেশে ফিরেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন