বাচ্চু আরও বলেন, ‘কৃষি কাম করে মোরা লাভের মুখ খুব কমই দেহি। চরের চাইরদিকে বান্দা না থাহনে বছরে একবার ধান আবাদ করতে পারি। রবি ফসল দেলেও জোয়ারে সব শ্যাষ করে দেয়। পেরতেক (প্রতি) বছর মৌসুমি তরমুজ আবাদ করি। কিন্তু ফল সব নুন পানিতে শ্যাষ করে দেয়। এই জন্য এইবার বুদ্ধি করে আগাম জাতের তরমুজ দিছি। খুব ভালো ফলন পাইছি। বড় সাইজের একটা তরমুজ পাইকারি ৩২০ আর ছোট সাইজের ২০০ টাহায় বিক্রি করছি। মৌসুমে এই তরমুজ ১০০ টাহায়ও বিক্রি অইতো না।’

মাসুদ দফাদার, সগির দফাদার, ফরহাদ দফাদার, ইলিয়াস চৌকিদার, গফুর মিয়াসহ অনেকে আগাম জাতের তরমুজ লাগিয়েছেন। ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন। এতে সবার মুখে ফুটেছে হাসি। মাসুদ দফাদার বললেন, ‘আমাগো ফলন দেইখ্যা চরের সব চাষি এহন আগাম তরমুজ চাষে আগ্রহী। যে অবস্থা হ্যাতে আগামী বছর এই চরে ১০০ একরের বেশি জমিতে আগাম জাতের তরমুজ আবাদ অইবে।’

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ুর অভিঘাতে উপকূলে লবণাক্ততা বাড়ছে, বাড়ছে প্লাবনভূমি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপকূলের কৃষি উৎপাদনে। এই অবস্থা মোকাবিলায় কৃষি উৎপাদনে নতুন নতুন প্রযুক্তি, খাপ খাওয়ানোর কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে। কৃষকেরাই এই অভিযোজন কৌশল উদ্ভাবন করছেন। এটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।

বরগুনা জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর জেলায় তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৪৩ হেক্টর। তা ছাপিয়ে আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৩১২ হেক্টর জমিতে। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম বলেন, মাঝের চরের কৃষকদের বুদ্ধিমত্তায় এবার তাঁরা আগাম তরমুজ আবাদ করে বেশ লাভবান। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। বরগুনা, পটুয়াখালী অঞ্চলে আগাম জাতের তরমুজ উৎপাদনে এগিয়ে এসেছেন কৃষকেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন