default-image

তিন নাতি-নাতনি নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন নানা। ঘুম ভেঙে টের পান, ঘরে আগুন লেগেছে। তড়িঘড়ি করে দুজনকে নিয়ে বের হয়ে যান নানা। এক নাতি রয়ে যায় ওই ঘরে। পরে আগুন নিভলে সেই নাতির পুড়ে যাওয়া লাশ পাওয়া যায়।

গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর লামছড়ি গ্রামে। আজ বুধবার জানাজা শেষে শিশুটির লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারা যাওয়া শিশুর নাম রেজাউল গাজী (৮)। সে উত্তর লামছড়ি গ্রামের গাজী রবিউল ইসলামের ছেলে। রেজাউল উত্তর লামছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাইদুর রহমান, চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা পরিষদ, বরিশাল

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রবিউলের বাড়ি সাতক্ষীরা। তিনি উত্তর লামছড়ি গ্রামের ইউনুস গাজীর মেয়ে সোনিয়া আক্তারকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থেকে যান। গতকাল রাতে রেজাউল, তার ভাই গাজী সাব্বির (১০) ও বোন রেবা খাতুনকে (৬) নিয়ে ইউনুস ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের তাপে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। আগুন দেখে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। ইউনুস দুজনকে নিয়ে ঘরের বাইরে চলে যান। তবে তাড়াহুড়োর কারণে রেজাউল ঘরে রয়ে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রেজাউল মারা যায়। পরে প্রতিবেশীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে রেজাউলের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছেন এলাকার লোকজন।

আজ সকালে জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চরবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহাতাব হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে টাকা সহায়তা করেন। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানও পরিবারটিকে টাকা দেন।

সাইদুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0