বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পের বি ব্লকে রোহিঙ্গা গৃহবধূ সলিমা খাতুনের একটি ঘর ছিল। গতকালের আগুনে তার ঘর পুড়ে গেছে। সলিমা খাতুন বলে, গতকাল বিকেলে তার ঘর থেকে কিছু দূরে একটি ঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। তখন সে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে তার বাড়িতে চলে আসে। তাই বাড়ি থেকে কিছু বের করার সুযোগও পায়নি সে। আগুনে তার ঘরে থাকা কাপড়চোপড়, নগদ টাকাসহ মূল্যবান স্বর্ণালংকার পুড়ে গেছে বলে সে দাবি করে।

আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে ঘুরে দেখা গেছে, ভয়াবহ আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গোসলখানা, টয়লেট ও নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পের নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকাল থেকেই অনেকের খাবার জোটেনি। কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা খাবারের জন্য এনজিওগুলোর সাহায্যের অপেক্ষায় আছে।

default-image

রোহিঙ্গা গৃহবধূ রহিমা বেগম বলে, গতকাল রাতে আগুনের ঘটনার পর সে চার ছেলেমেয়ে নিয়ে পাশের একটি লার্নিং সেন্টারে উঠেছিল। সেখান থেকে রাতে কিছু শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে তারা না খেয়ে আছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি) ও এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বিভিন্ন লার্নিং সেন্টার ও মাদ্রাসায় নিয়ে যান। সেখানে রাত কাটানোর পর সকালেই আবার অধিকাংশ রোহিঙ্গা আগের বসতভিটায় ফিরে এসেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করছেন।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাট্যালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শিহাব খান বলেন, শীতের কারণে রোহিঙ্গারা বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তবে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) তাদের খাবারের ব্যবস্থা করছে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দ্রুত নতুন বসতি নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন