বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তথ্যমতে, রায়পুরের জন্য দেওয়া হয় ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র। সেটি গত জুন মাসে স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া কমলনগরে ফেব্রুয়ারি, রামগতিতে মে ও রামগঞ্জে মার্চ মাসে কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে। এই চার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৭-২০০৮ সাল থেকে টেকনিশিয়ানের পদ শূন্য। তখন থেকে যন্ত্র থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স–রে বন্ধ রয়েছে। আগের এক্স–রে যন্ত্রগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় নতুন যন্ত্র এসেছে।

চার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে গড়ে দুই-আড়াই হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জন রোগীর এক্স-রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় যন্ত্রগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না।

রায়পুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রতি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এরপরও কোনো লাভ হচ্ছে না। রোগনির্ণয়ের কাজে লাগেনি।

একই কথা বলেন রামগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গুণময় পোদ্দার ও কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু তাহেরও।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক্স-রে টেকনিশিয়ান পদে জনবল না থাকায় এসব যন্ত্রপাতি চালু করা সম্ভব হয়নি। চালুর জন্য প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। লোকবলসংকট দূর করতে আমরা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

আগেরগুলো নষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, টেকনিশিয়ান পাওয়া গেলে গেলে সেগুলো কতটুকু সচল আছে, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে যন্ত্রের সুবিধা না পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি রোগনির্ণয়কেন্দ্রে। এতে টাকাও বেশি লাগছে, পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তিও।

রায়পুরের কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা স্বপন হোসেন (৪৫) বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর পা ভাঙার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। এক্স-রের প্রয়োজন হলে তাঁকে স্বজনেরা বাইরে নিয়ে এক্স-রে করান। ভাঙা পা নিয়ে বাইরে যেতে খুব কষ্ট হয়।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন দেখা যায়, এক্স–রে যন্ত্রের কক্ষটি তালাবদ্ধ। এরপরও না জেনে অনেকে সেখানে চলে আসছেন।

সেখানে কথা হয় সোনাপুর গ্রামের কুসুম আক্তার (২৮) নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন কাশিতে ভোগার পর চিকিৎসা নিতে এলে চিকিৎসক এক্স–রে করাতে বলেছেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর জানতে পারলেন, হাসপাতালে এক্স–রে হয় না।

লক্ষ্মীপুরের জেলার চারটি উপজেলায় ৬৩টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রামগঞ্জে ২৬টি, রায়পুরে ১৫টি, রামগতিতে ৭টি ও কমলনগর উপজেলায় ১৫টি। এসব তথ্য জানিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তুহিন চৌধুরী জানান, ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি করে মোট ৯৪৫টি এক্স-রে করা হয়। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার বেশি হয়।

বেসরকারি রোগনির্ণয়কেন্দ্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারিতে ডিজিটাল এক্স-রে করতে রোগীদের খরচ হয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ সরকারি হাসপাতালে এর খরচ পড়ে ৬০ থেকে ১০০ টাকা।

মানুষের ব্যবহারের জন্য দেওয়া এক্স-রে যন্ত্র ফেলে রেখে সরকারের টাকা অপচয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি মো. কামাল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক্স-রে যন্ত্রগুলো ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নয়, কেনা হয় মহলবিশেষের পকেট ভারী করার জন্য। জনগণের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হলে আগে টেকনিশিয়ান দেওয়া হতো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন