বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ায় পরাজিত প্রার্থী ইউনুস মিয়া ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। গত শনিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে তিনি কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে তাঁর সমর্থক ভ্যানচালক মোকলেস মিয়ার ভ্যানে চড়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। খাজুরিয়া গ্রামে পৌঁছালে ইউনুস মিয়ার নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ভ্যানচালক মোকলেসসহ ৪-৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মোকলেস মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২০) অভিযোগ করেন, পরাজিত প্রার্থী ইউনুস মিয়া নির্বাচনের আগে মোকলেসকে তাঁর দল করতে প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ইউনুস মিয়া ক্ষিপ্ত হন এবং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করেছে। মোকলেসের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, ইউনুস মিয়াকে সমর্থন না করায় প্রতিহিংসা থেকে তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের উপযুক্ত বিচার চান।

আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সৈকত জয়ধর বলেন, মাথায় আঘাতের কারণে মোকলেস মিয়া মারা গেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে পরাজিত প্রার্থী মো. ইউনুস মিয়া বলেন, বিজয়ী প্রার্থীর ওপর হামলা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। নির্বাচনী প্রতিহিংসা থেকে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, পরাজিত সদস্য প্রার্থী ইউনুস মিয়ার সমর্থকদের হামলায় আহত ভ্যানচালক মোকলেস মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মো. ইলিয়াস মিয়া বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি তানভীর ইসলাম (২৪), এনামুল হাওলাদার (২৬) ও রফিক মিয়াকে (২৪) খাজুরিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম ও আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন সেরনিয়াবাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান ও নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন