বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলছাত্রীর অজান্তে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথা পাকাপোক্ত হওয়ার পরে সম্প্রতি মেয়ের বাবা নোটারির মাধ্যমে নিজেই স্বাক্ষর করে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। গতকাল রাতে দুই পরিবারের সম্মতি নিয়ে বর (২২) ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে নিজেকে ওই ছাত্রীর স্বামী দাবি করেন। এ সময় ওই কিশোরী তার বিয়ের খবর জানতে পেরে মা–বাবার কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সে স্বামী হিসেবে ওই যুবককে মেনে নিতে অস্বীকার করে তাঁকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে। এরপরও ওই যুবক বাড়ি থেকে চলে না যাওয়ায় স্কুলছাত্রী রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় আশ্রয় নেয়। এ সময় বাল্যবিবাহ থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের সহায়তা চায় মেয়েটি।

ছেলেপক্ষ মেয়েটিকে তাদের বাড়িতে উঠিয়ে নিতে এলে নিজের বিয়ে হয়েছে জানতে পারে ওই কিশোরী। নিরুপায় হয়ে বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচতে থানায় হাজির হয়ে সে পুলিশের সহায়তা চায়।

ওই কিশোরী প্রথম আলোকে বলে, ‘আমি লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াব এবং সমাজের জন্য, দেশের জন্য কাজ করব। তারপরে বিয়ে। এখনই বিয়ে নয়, বিষয়টি কোনোভাবেই মা–বাবাকে বোঝাতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে থানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্কুলছাত্রীর বাড়িতে পুলিশ পৌঁছার খবর পেয়ে স্বামী দাবি করা যুবকটি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ স্কুলছাত্রীর মা–বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীর মা–বাবা নোটারির মাধ্যমে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মেয়ের বাল্যবিবাহ দেওয়ার কাজটি ঠিক হয়নি। আমরা ভুল করেছি।’

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, রোববার রাতে স্কুলছাত্রী থানায় এসে বিষয়টি জানালে পুলিশ পাঠিয়ে মা–বাবাকে আটক করে থানায় আনা হয়। এর আগেই বর পালিয়ে যান। আজ মুচলেকা রেখে ছাত্রীর মা–বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন