default-image

নেত্রকোনায় রোববার সন্ধ্যার দিকে আচমকা শুরু হয় দমকা বাতাস। গরম ওই বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও নামে। তখনো কৃষকেরা ঠাওর করতে পারেননি কী ক্ষতি হয়েছে সামান্য ওই বাতাসে। সোমবার সকালে খেতে গিয়ে তাঁদের মাথায় হাত ওঠে। সূর্যের প্রখরতা যত বেড়েছে, ততই বোরো ধানের শিষ মরতে শুরু করেছে। এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নেত্রকোনায় অন্তত ২১ হাজার ৬৮৮ হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।

স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় এবার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ গরম বাতাস শুরু হয়। যেসব এলাকা দিয়ে ওই বাতাস প্রবাহিত হয়েছে, সেসব এলাকার বোরো ধানের খেতের শিষ মরে গেছে। বারহাট্টা, কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা এবং মদন, খালিয়াজুরি ও মোহনগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সোমবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ নিরূপণ করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিজ্ঞানীদের আসার কথা রয়েছে। তাঁরা পরীক্ষা করে বলতে পারবেন, কীভাবে এই ক্ষতি হলো।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামের হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরম বাতাসের প্রভাবে ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। সোমবার জেলার করিমগঞ্জের উরদীঘি, ইটনার রায়টুটি, মিঠামইনের বড় হাওরসহ কয়েকটি হাওরে গিয়ে ধানের শিষ শুকিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মেলে। রায়টুটি এলাকার কৃষক মাহিন মিয়া ও শফিক মিয়া, উরদীঘির কৃষক নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু গত রোববার সন্ধ্যার আচমকা গরম বাতাসে হাজার হাজার একর জমির ধান শুকিয়ে গেছে। তাঁরা এখন অনেকটা দিশেহারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জে এ বছর মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলসহ কয়েকটি অঞ্চলের মোট ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল আলম বলেন, জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে। জরিপ শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন