বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার ৯টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৬৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার গঙ্গাচড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ইজিবাইকে করে প্রার্থীদের ভোট চেয়ে চলছে প্রচার। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ও তাঁদের সমর্থকেরা প্রচারণায় ব্যস্ত। ভোটারদের বাগে আনতে তাঁরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। গ্রামের মোড়, গঞ্জের দোকানগুলোতে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে খাওয়ানো হচ্ছে চা-নাশতা।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি কলেজ–সংলগ্ন এলাকায় কথা হয় ভোটার মামুন ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাই মাইকিংয়ের জ্বালায় কান ঝালাপালা হচ্ছে। দিন-রাইত সউগ সময় মাইকিং করছে প্রার্থীরা। ঘুম হারাম হইছে। সহ্য করি নেওচি।’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের মাদ্রাসাপাড়া গ্রামের ভোটার ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘ভোট আসছে। কি সকাল কি দুপুর রাইত প্রার্থীরা বাড়িত আইসোছে। সিদ্ধ ডিম হাতোত দিয়া ভোট চাওছে। মিটিংয়ে ডাকে নিয়া যাওছে। রাত-ঘুম জাগি মিটিং, মিছিলোত যাওছি। না গেইলে ফের শত্রু হমো। ও জন্যে যায় ডাকা তারে সাথে যাবার নাগে। কামাইও আছে।’

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের এসকেএস বাজারে একটি চায়ের দোকানে দেখা গেল, ২৫-৩০ জনের ভিড়। সেখানে কথা হয় কেল্লারপাড় গ্রামের নুর ইসলামের সঙ্গে। ভোটের কথা জানতেই তিনি বলেন, ‘এই ভোটের চা খাওছি। এর বেশি কী চাই। প্রত্যেক বছর নদীত ঘর ভাঙে, ১০ সের চাল পাই। চেয়ারম্যান–মেম্বার এর বেশি কিছু দিবার পারে না। তোমরা তো সাংবাদিক, পেপারোত লেখি দেও যুগ যুগ ধরে তিস্তা ডুবি মরুছি। সরকার যেন তাড়াতাড়ি নদীটা খুঁড়ি বাঁধ বানে দেয়। এগলা মেম্বার-চেয়ারম্যান দিয়া হবার নেয়।’

মর্নেয়া ইউনিয়নের খলিফার বাজারে কথা হয় মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাই ভোট আসছে থাকি পকেট খরচ কমছে। হাটবাজারোত আসছে খায়াটায়া দুই–চার শ টাকা বাড়িত ধরি যাওছি। মিছিল করুছি অইদগা কামাই হওছে। হামরা সউগ প্রার্থীর ভোটার। ভোটের দিন হামার প্রার্থী একজন।’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের কৃষক আফজাল মিয়া বলেন, ‘নয়া ঘরের দেয়ালোত ওমরা (প্রার্থীরা) মার্কা নাগে যাওছে। বাধা করলে কয় তোমরা ভোট দিবার নেন। পরে চেয়ারম্যান হইলে ফের শত্রু হইবে। সেই তকনে কাকো বাধা করি না। সউগ প্রার্থীর লোকজন ঘরে দেয়ালোত মার্কা নাগাওছে। তার ওপর চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা আত্মীয়স্বজনোক সাথে করি গভীর রাইতোত বাড়িত আসি ঘুম থাকি ডাকি তুলি ভোট চাওছে।’

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘গঙ্গাচড়ায় নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ১০৭টি ভোটকেন্দ্র এলাকাসহ সর্বত্র পুলিশি টহল জোরদার করেছি। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উপজেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন