বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার বিকেলে পূর্ব শ্রীকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় সাংসদকে উদ্দেশ করে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া বলেন, ‘২ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে আপনি এমপি (সংসদ সদস্য) হয়েছেন। মাগুরার এই ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষের কথা চিন্তা করে আপনার উচিৎ ছিল ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়া। মানুষকে ফ্রি (মুক্ত) করে দেওয়া। যে যেখানে খুশি ভোট দিক। আপনি আমাদের এমপি, আমরা সবাই আপনাকে ভোট দিয়েছি। আপনি পক্ষ অবলম্বন করে শ্রীপুরের মানুষকে বিভক্ত করবেন না। জাতীয় নির্বাচন কিন্তু সামনে। আপনি ভালো হয়ে যান। আপনি আপনার কাজ করেন। আপনার কাছে আমরা সবাই সমান।’

নৌকা প্রতীকের পক্ষে বহিরাগত বাহিনী দিয়ে সাংসদ সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন অভিযোগ করে যুবলীগের সাবেক এই নেতা আরও বলেন, ‘আপনি এখানে বহিরাগত বাহিনী পাঠিয়ে ভোট চাচ্ছেন। ওই বহিরাগত বাহিনী দিয়ে শ্রীপুরের মানুষের মন জয় করা যাবে না। আপনি আপনার বহিরাগত বাহিনী ফেরত নিয়ে যান।’

সাংসদ সাইফুজ্জামানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে কুতুবুল্লাহ মিয়া আরও বলেন, ‘আপনি সংশোধন না হলে মাগুরা-শ্রীপুরে আপনার বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ হবে। সেই নেতৃত্ব কুতুবুল্লাহ মিয়াই দেবে। এম এস আকবর (মাগুরা–১ আসনের সাবেক সাংসদ) প্রতারণা করেছিলেন। আমি তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলাম। আপনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না, যাতে আপনার বিরুদ্ধেও আমাকে নির্বাচন করতে হয়।’

বক্তব্যে কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে সাংসদ সাইফুজ্জামান দুদিন শ্রীকোল ইউনিয়নে নৌকার ভোট চাইতে এসেছেন। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন আজ বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমলে নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ সাইফুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ওই ইউনিয়নে একটি দাওয়াতে গিয়েছিলেন। ভোট চাইতে যাননি। ফেরার পথে বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন— নির্বাচন ঘিরে যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। ভোটারদের মন জয় করে যে জয়লাভ করে করবে। তিনি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।

বহিরাগতদের বিষয়ে সাংসদ বলেন, দলীয় প্রার্থীর জন্য জেলা থেকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের অনেকেই গিয়ে ভোট চাইছেন। তাঁরা তো আর বহিরাগত হতে পারে না।

শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বহিরাগত বলতে উনি (বিদ্রোহী প্রার্থী) কাকে বুঝিয়েছেন জানি না। জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচার চালাচ্ছেন।’ সাংসদের শ্রীপুর যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওনার বাবাসহ বয়সী একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে এসেছিলেন। সেখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। আর এক দিন একটি ফাইনাল খেলায় ১৫ মিনিট উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও উনি কোনো কথা বলেননি। অভিযোগগুলো দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে।’

চতুর্থ দফায় ২৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর উপজেলার আট ইউপিতে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। শ্রীকোল ইউপিতে এবার চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মোট চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে আনারস প্রতীকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া ও নৌকা প্রতীকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী তারিকুল ইসলাম ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত দুজন ভোটের মাঠে রয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন