default-image

ঝিনাইদহ–৩ আসনের সাংসদ আব্দুল হাই প্রকাশ্যে শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শৈলকুপায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে সভা করে তিনি এ আহ্বান জানান।

পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৫–এর ২২ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা আছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ, সিটি করপোরেশনের মেয়ররা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। ওই ধারা অনুযায়ী গতকাল সাংসদ আব্দুল হাই শৈলকুপায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তৈয়বুর রহমান খান বলেন, সাংসদ এলাকায় এসে ভোট চাইছেন। প্রথমে তিনি (সাংসদ) নৌকার প্রার্থীর পক্ষে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি এতে রাজি হননি। তিনি সাংসদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি সাংসদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী খলিলুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনিও নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এভাবে ভোটের মাঠে নামায় ভোটারদের মধ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে সাংসদ আব্দুল হাই বলেন, তিনি শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী আশরাফুল আজমের নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়। এরপর তিনি নির্বাচনী এলাকা থেকে চলে এসেছেন।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘সাংসদ আব্দুল হাইয়ের নির্বাচনী এলাকায় আসার বিষয়টি আমি এক প্রার্থীর অভিযোগের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এরপর তিনি সাংসদকে ফোন করে বলেন, “আপনি ভোটের মাঠে এসেছেন এটা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।” তখন সাংসদ আমাকে বলেছেন, তিনি ভোট চাইতে নয়, এলাকায় এসেছিলেন।’

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এভাবে সাংসদ ভোটের মাঠে নামায় ভোটারদের মধ্যে প্রভাব পড়তে পারে।
খলিলুর রহমান, শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, গতকাল বেলা ১১টায় শৈলকুপা শহরে আসেন সরকারদলীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি শহরের কবিরপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে সভা করেন। এ সময় তিনি বলেন ‘শেষ মুহূর্তে সব বিভ্রান্তি দূর করতে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। আপনারা নৌকার পক্ষে থাকবেন, নৌকায় ভোট দেবেন।’

আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী কাজী আশরাফুল আজম তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘তাঁর (সাংসদের) নির্বাচনী মাঠে আসা আইনগত সমস্যা। তারপরও উনি এসেছেন, শুধু নৌকার জন্য এসেছেন। দলের মধ্যে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য তিনি এসেছেন। তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। দু–একজন আওয়ামী লীগের নেতা নৌকার বিপক্ষে ভোট করছেন। তাঁদের এই বিভ্রান্তি দূর করতেই এমপি মহোদয় এসেছেন।’

সাংসদ আব্দুল হাই তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্বাচনের মাঠে সাংসদদের যাওয়া নিষিদ্ধ। এই কারণে তিনি আসেন না। আজ এসেছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দুই দফা টেলিফোনে তাঁকে বলা হয়েছে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।’

মন্তব্য করুন